Sunday, November 20, 2016
ভূল ও আমি
Wednesday, November 16, 2016
বাংলাদেশী ‘ক্ষুদে আইনস্টাইন’ (ভিডিও) বিস্ময় শিশুর কাছে ওবামার চিঠি
চট্টগ্রামের সন্তান রাশেদুল বারী উচ্চশিক্ষার জন্যে নিউইয়র্কে আসার পর ব্রঙ্কসের লিমন কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্ক সিটি ইউনিভার্সিটির বারুখ কলেজে অংকের এডজাঙ্ক অধ্যাপক এবং একইসঙ্গে নিউভিশন চার্টার হাই স্কুল ফর এডভান্সড ম্যাথ অ্যান্ড সায়েন্সে পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক। জেরুজালেম পোস্টে তিনি নিয়মিতভাবে কলাম লিখছেন। সুবর্ণর মা রেমন বারী ব্রঙ্কস কম্যুনিটি কলেজ থেকে একাউন্টিংয়ে ডিগ্রি নিয়েছেন। সুবর্ণর একমাত্র বড় ভাই রিফাত আলবার্ট বারীর বয়স ১২। সেও অসাধারণ মেধার অধিকারী। সপ্তম গ্রেডে পড়ছে এবং ৭ ভাষায় কম্প্যুটার প্রোগ্রামিংয়ে অভ্যস্ত। সে হাইস্কুলে না গিয়েই বিশ্ববিখ্যাত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে চায়। এজন্যে সে ইতোমধ্যেই ৩ বার এস এ টি প্রদান করেছে।
সুবর্ণর জন্ম ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল অর্থাৎ গেল এপ্রিলে তার বয়স চার বছর পূর্ণ হয়েছে। সুবর্ণ তার বাবার ল্যাবরেটরিতে যাচ্ছে এবং অঙ্কশাস্ত্র ছাড়াও রসায়নের বিভিন্ন বিভাগ সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছে। এখনও সে স্কুলে ভর্তি হয়নি।
FACEBOOK
YOUTUBE CHANNEL
Saturday, October 22, 2016
দঙ্গলের ট্রেলারটা দেখেছেন?
woman enpowerment। এই ট্রেন্ডের ওপর বর্তমানে একের পর এক ছবি তৈরি হচ্ছে। দঙ্গলের ট্রেলার মুক্তি পেতেই উচ্ছসিত দর্শক। মহাবীর সিং ভোগত আর তাঁর দুই কন্যার বাস্তব গল্প থেকে বানানো ছবি নিয়ে আগ্রহ প্রথম থেকেই। পর পর মেয়ে হওয়ায় কুস্তিগীর হওয়ার স্বপ্নটা তাকে তুলে রাখতে হয়। ততদিন, যতদিন না প্রতিবেশীর দুই ছেলেকে পিটিয়ে গীতা-ববিতা প্রমাণ করেন, সোনা সোনা ই হয় ছেলে আনুক বা মেয়ে। সলমনের সুলতান এই বিষয়ের ওপর হলেও ছবির স্টোরিলাইনে কিন্তু আরফা নয় শেষমেষ হিরো হন সুলতান সলমনই। সক্রিয় কুস্তির সঙ্গে জড়িয়ে থাকলেও নেশা পেশাকে সাইডলাইন করতে হয় বিয়ের পর। কুস্তিগীর সাক্ষী মালিক এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন সল্লুভাইয়ের কাছে। কেন তিনি ছবিতে এমনটা দেখিয়েছেন। সদূত্তর মেলেনি।
তবে এই স্বাদেরই কি একটু বদল হবে আপকামিং ছবি দঙ্গলে? বাবার স্বপ্নপূরণ করবে দুই মেয়ে? মাসেল পাওয়ারেও পুরুষের সমান হতে পারে নারীরা। এই বার্তাই আন্দাজ করা যায় ছবির ঝলক দেখে। নিতেশ তিওয়ারীর গল্পের ফোকাসে ফোগতের দুই মেয়ে, যা পর্দায় ফুটিয়েছেন ফতিমা সানা শেখ ও সানিয়া মলহোত্রা। একে আমির খান, তার ওপর এই স্পোর্টস ড্রামায় একবার ওজন বাড়ানো একবার কমানো, যা করতে গিয়ে অসুস্থ হয়েছিলেন অভিনেতা। সবনিয়ে দঙ্গল প্রথম থেকেই খবরে ছিল। তবে এবার ছবির ট্রেলার মুগ্ধ করেছে ফ্যানেদের। প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিল দ্বিগুণ।
MY FACEBOOK
MY YOUTUBE
দঙ্গলের ট্রেলারটা
Tuesday, October 11, 2016
মেঘলা দিনে,মেঘলাময় মনে, মেঘলা’কে বৃষ্টিস্নাত নিমন্ত্রন
বৃষ্টিস্নাত কদমফুলের উপর পরা বৃষ্টির ফোটার মতই ভিজে থাকোক তোমার কুয়াশাচ্ছন্ন মেঘাচুল।আর সে চুল বেয়ে নেমে আসুক অবাধ্য কিছু বৃষ্টির ফোটা তোমার ভেজা গোলাপী আাভাময় সারা শরীরে।
“অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার ধরে রাখার বিড়ম্বনা আর নেই” রবীন্দ্রনাধ ঠাকুর কি জানত অধিকার ফিরে পাওয়াটায় অনেক বড় পাওয়া।নতুন করে,নতুন ভাবে,নতুন গানের নতুন সুরে আবার তুমি বলবে-তুমি ভালো আছো ত..।তাতে থাকুক না নতুন করে পুরানো স্মতির বিড়ম্বনা,আপন করে ভাবার অধিকার থাকুক আর নাই থাকুক-তোমার সাগরের মত নীল চোখে তাকিয়ে থাকাটাই রইল আমার অধিকার আর পাওয়া।
রইল খোলা দুয়ার ঘরের আর আমার মনের।মেঘলা দিনে,মেঘলা মনে,মেঘলা তোমায় রইল আমার নিমন্ত্রন।তুমি এসো…….তুমি আসবে ত…..?
……..অতিথি
MY FACEBOOK
MY YOUTUBE CHANNEL
Saturday, October 1, 2016
Sunday, September 18, 2016
বাংলার সালমান খান ‘হিরো' আলম
হিরো আলমকে নিয়ে পাঁচ মিনিটের একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছে ‘লিটল বিগ ফিল্মস'৷ ৫ সেপ্টেম্বর সেটি তাদের ফেসবুক পাতায় শেয়ার করা হয়৷ কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের পুত্র নুহাশ হুমায়ূন এটি নির্মাণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তথ্যচিত্রের ধারাবর্ণনা তিনি নিজেই দিয়েছেন৷ তথ্যচিত্রটি ফেসবুকে এখন পর্যন্ত দুই লক্ষ ৩৫ হাজারের বেশিবার দেখা হয়েছে৷ তথ্যচিত্রে হিরো আলমকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তার প্রশংসা করছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অনেকেই৷ সুতরাং আপনিও দেখুন৷
FACEBOOK
YOUTUBE CHENNEL
Thursday, September 8, 2016
প্রাণীর হাতে আক্রান্ত হয়েছিল যে শহরগুলো
উটের আক্রমণে ডোকার নদী, অস্ট্রেলিয়া
অনেক আগে অস্ট্রেলিয়ার মরু অঞ্চলে চলাচলের জন্য উট ব্যবহার হয়ে আসছিল। কিন্তু পরবর্তীতে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতির ফলে উটগুলোর আর তেমন যতœ হয় না। তাই হয়ত ওরা ২০০৯ সালে এসে বিদ্রোহী হয়েছিল পানি পিপাসার জন্য। হঠাৎ করে হাজার হাজার উট এসে ডোকার নদী দখল করে নেয়। সরকার পরিস্থিতি শান্ত করতে নিরাপত্তা বাহিনীকে কাজে লাগায় এবং সেসময় অনেক উট আহত হয়।
সাপের দখলে ইজিসু শহর, ঘানা
ঘানার ইজিসু শহরের দু’টি গ্রাম বিষধর কালো সাপের দখলে যায় এ বছরেরই এপ্রিল মাসে। জঙ্গলে ভরা গ্রামে ঢুকতে গেলেই দেখা মিলত হাজার রকমের সাপের। বাসার ভিতরে বিভিন্ন ঘরে ও বাথরুমে ঢুকলেও দেখা যায় সাপের বসবাস। স্থানীয় জনগণ একে ঈশ্বরের অভিশাপ বলে উল্লেখ করে বলেন, যুবক-যুবতীরা ঝোপ-ঝাড়ের আশেপাশেই অবৈধ শারীরিক মিলনে আবদ্ধ হয়, তাই ঈশ্বর রাগ করে সাপ পাঠিয়ে দিয়েছেন।
ব্যাঙের আক্রমণ, যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের অকন্টো শহর ১৯৫২ সালে ব্যাঙের দখলে চলে যায়। কোটি কোটি ব্যাঙ এসে রাস্তাঘাট দখল করে ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ডাক শুরু করে। গাড়ি চলার সময় চাকার নিচে পড়ে পটাপট শব্দে হাজার হাজার ব্যাঙ মারাও যায়। শহরবাসীর অধিকাংশই শহর ছেড়ে চলে গেলে কর্তৃপক্ষ ব্যাঙ তাড়ানোর ব্যবস্থা করে।
MY YOUTUBE CHENNEL
Saturday, August 27, 2016
গাঁজা খেলে নাকি এই ভালো জিনিসটাও হয়!!!
গাঁজার উপর দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়েছেন কানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ে একদল গবেষক। তাদের গবেষণাতেই উঠে এসেছে এই তথ্য। গাঁজার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে আলো শনাক্তকরণ ক্ষমতা। মারিজুয়ানা বা গাঁজা বা ক্যানাবিস-এ রয়েছে ৫০০টি প্রাকৃতিক যৌগ। এরমধ্যে কমপক্ষে ৮৫টি যৌগ মিলে তৈরি করে ক্যানাবিনয়েডস। যারমধ্যে সবচেয়ে বেশি গুণসম্পন্ন হল THC বা টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল ও CBD বা ক্যানাবিনল।
YOUTUBE CHANNEL
Wednesday, August 17, 2016
“আমি ব্যাচলর,আমি গর্বিত ব্যাচলর”
আধুনিক যুগের ব্যাচলররা খুব প্রতাপ নিয়ে এই কিছুদিন আগেও বিচরন করেছে।হাতে গোনা কিছু বাড়িওয়ালা ছাড়া বাসাবাড়া দিতে কুন্ঠাবোদ করত না।আর যদি বাড়িওয়ালা বা প্রতিবেশির যদি একটা বা দুটো অবিবাহিত মেয়ে থাকে তাহলে এক্সাটা কিছু এডবান্টেজ অটো পাওয়া যেত।চাপাতি,চিনি,লবন হতে শুরু করে বুয়া না আসলে খাবারের ব্যাবস্তাও হয়ে যেত।যা বাড়িওয়ালারা দেখেও না দেখত।বাচলররা খুব গর্ব করে বলত ‘বাড়িওয়ালাদের বাড়ি একটা, আর ব্যাচলরদের বাড়ি হাজারটা।’ কিন্তু সমাজে ব্যাচলরদের আজকাল যে অবস্থা এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিন পর আর একটাকেও খুজেঁ পাওয়া যাবে না।হেয় হয়ে আমগাছ আর জামগাছ তলায় কতোদিন থাকবে ।এর ফলে লিভটুগেদারের পরিমান বেড়ে যাবে।অথবা মুসলমানি হওয়ার আগেই ছেলেরা বিয়ে করে ফেলবে।এতে জনসংখ্যার গনবিষ্ফোরন ঘটবে।আর ১৮+ বলে কোন সতর্কবাণী থাকবে না।থাকবেনা নতুন নতুন উটেরমতো চুলের স্টাইল,বাসার ছাদে গিয়ে দুপা মেলিয়ে চাঁদ মামার দিকে তাকিয়ে কেউ আর আকাশের দিকে বিড়ির ধুয়া ছারবেনা।বাসার ছাদ থেকে দাড়িয়ে দাড়িয়ে প্রস্রাব করার ফলে নিচের বাসার বাসিন্দার বেডরুমে গিয়ে আর পরবেনা সে লবনাক্ত পানি।রাস্তাঘাটে আর দেখা যাবে না দাড়িয়ে প্রস্রাব করার অদ্ভুদ সুন্দর সে চিত্র।মহল্লার দোখানটিতে দেখা যাবেনা চা সিগেরেট খেতে খেতে ইভটিচিং করা ছেলেটিকে।ফলে মেয়েরা সাজুগুজু করা বন্ধ করে দিবে।পাড়ার দোখানের ভিতর থেকে বসে বাড়িওয়ালাকে ভাই বলে ডেকে লুকিয়ে পরবেনা।আর সেই বাড়িওয়ালাকে সামনা সামনি পেলে সেই ছেলেটিই মাথা নত করে বলবে না ‘আংকেল কেমন আছেন,এ রেীদ্রে আপনি বাজার নিয়ে যাচ্ছেন,দেন আমার কাছে,আমিও বাসার দিকে যাচ্ছি।আর বাড়িওয়ালা গদগদ হয়ে বলবে ‘ইস ছেলেটা কত ভালো’।পাশের বাসা থেকে আসা রান্নাকরা সুস্বাদু খাবারের ঝাঝালো ঘ্রানে পেটে হাত দিয়ে আলু বর্তৃা আর পানি ডাল দিয়ে খেতে খেতে বিধাতাকে আর কেই বলবেনা “ইৃশ্বর থাকে ও ভদ্র পল্লীতে,ওখানে গেলে ওনাকে খুজিয়া পাওয়া যাইতে পারে”। মোবাইলে কথা বলতে বলতে রাত পোহাবে না অথবা রাত তিনটার সময় রাস্তায় বের হয়ে প্রস্রাব দিয়ে ব্রেকআপ হওয়া প্রেমিকার নাম আর লিখবে না রাজপথে। এরকম হাজারটা ব্যাচলরের হাজার হাজার অদ্ভুদ সুন্দর পাগলাটে সব কীর্তিমান কর্মৃকান্ড আর ইতিহাসের পাতায় লেখা হবে না। আজ তাদের হাটতে চলতে বসতে কথা বলতে ভয়…মনে করে সরকার পাছার মধ্যে সিসিক্যামেরা স্থাপন করে রেখেছে।এর ফলে তারা কুনোব্যাঙয়ের মতো ঘরকুনো হয়ে পরছে।এখন একটা যুদ্ধ বাধলে তারা ঝাপিয়ে পরবেনা।শাহবাগ চত্তরে আর উন্মাদনা দেখা যাবে না।নীলক্ষেত থেকে নীল ছবি আনতে কেউ আর যাবে না।যাবেনা ধানমন্ডির ব্যাচলর পয়েন্টে।কুপোত কুপিতির মত জোড়া হয়ে বসবেনা রমনার পার্কে।হাতিরঝিলের পানিতে আর ভাসবেনা বৈচিত্রময় সাদা প্যাকেট। আর এভাবে আরও কিছুদিন চললে ভিনগ্রহের প্রাণি এলিয়েন ভেবে দুএকটা ব্যাচলরকে বিভিন্ন গনমাধ্যম কর্মীরা খুজে বের করবে।আর প্রশ্ন করা হবে“ আপনার এ সাফল্যর পিছনে গোপন রহস্য কি?”। এরপর আরও কিছুদিন এভাবে চললে ডাইনেসর প্রানিদের মত কোন একসময় এ গ্রহে ব্যাচলর প্রজাতির প্রানির অস্তিস্থ ছিল কিনা তা নিয়ে গবেষনা করবে।খুজে বের করবে ব্যাচলরদের ফসিল। তাই ব্যাচলরদের অস্তিস্থ টিকিয়ে রাখতে হলে এখনিই সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে।বিবাহিতরা ব্যাচলরদের আনন্দ দৃ:খের কষ্ঠটা বুঝবেনা কারন তারা..ত বিয়ে করার সাথে সাথেই মারা গিয়েছে।একজন ব্যাচলরই বুঝতে পারে ব্যাচলরে মনের কথা।তাই আমাদের দাবি..যারা বিবাহিত ‘‘‘আবার তোরা ব্যাচলর হ’’’।আর আমরা ব্যাচলরা লাখো কন্ঠে আওয়াজ তুলি….“আমি ব্যাচলর,আমি গর্বিত ব্যাচলর”। ……………………অতিথি MY FACEBOOK YOUTUBE CHANNEL
Wednesday, June 22, 2016
তবু বাড়িয়ে দিও সাহায্যের হাত (বিশ্বকাপাঁনো রমজানের সেরা ভিডিও-অতিথি)
Tuesday, June 21, 2016
এইচআইভির ভ্যাকসিন আবিষ্কারে থাকবে বাঙালি নারীর হাত
Tuesday, June 7, 2016
‘ব্রিটিশ শাসকদের সুপরিকল্পিত গণহত্যা বা মহা-হলোকাস্ট’
পৃথিবীর ইতিহাস সত্য ও মিথ্যার দ্বন্দ্বের ইতিহাস। সত্য ইতিহাস হচ্ছে সভ্যতার প্রকৃত দর্পণ। আর প্রকৃত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়া ছাড়া কোনো জাতি উন্নতি ও অগ্রগতির সোপানগুলো অতিক্রম করতে পারে না। কিন্তু বলা হয় শক্তিমান ও বিজয়ীরাই ইতিহাস লেখে। জালিম ও আধিপত্যকামী শক্তিগুলো যুগে যুগে ইতিহাসকে তাদের স্বার্থে করেছে বিকৃত। বিশেষ করে উপনিবেশবাদী পশ্চিমা শক্তিগুলো দেশে দেশে তাদের শোষণ-লুণ্ঠন, হত্যাযজ্ঞ ও বর্বরতাসহ নানা অপরাধকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছে, কিংবা সেইসব অপরাধের পক্ষে নানা অপযুক্তি দেখিয়ে সেগুলোকে বৈধ ও অনিবার্য বলে দেখানোর চেষ্টা করেছে।
অবশ্য বড় ধরনের অপরাধগুলো কখনও পুরোপুরি গোপন রাখা যায় না এবং হাজারো অপযুক্তি দেখিয়েও সেসবকে বৈধ বলে চালিয়ে দেয়া যায় না। বিশ্বের নানা অঞ্চলে উপনিবেশবাদী ব্রিটেনের অপরাধযজ্ঞও এমনই একটি বিষয়। ভারত উপমহাদেশের বৃহত্তর বাংলায় ১১৭৬ বাংলা সনের তথা ১৭৬৯-৭০ খ্রিস্টাব্দের মহা-দুর্ভিক্ষকে অনেক গবেষকই ব্রিটিশদের পরিকল্পিত গণহত্যা বলে মনে করছেন। সেই থেকে ১৮টি দশক তথা ১৮০ বছর ধরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা বৃহত্তর বাংলা ও ভারতের নানা অঞ্চলে ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে প্রায় দশ কোটি মানুষকে হত্যা করেছে বলে তারা প্রামাণ্য নানা তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেছেন।
বলা হয় ১৭৬৯ থেকে ১৭৭৩ সালের খরায় নিহত হয়েছিল এক কোটি বাঙ্গালি। বৃহত্তর বাংলার এক তৃতীয়াংশ জনসংখ্যা কমে যায় এর ফলে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজরা একদল বিশ্বাসঘাতক ও লোভী কর্মকর্তা আর ব্যবসায়ীর সঙ্গে ষড়যন্ত্র পাকিয়ে প্রহসনের এক যুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে পরাজিত ও শহীদ করার ৫ বছরের মধ্যেই ঘটানো হয় এই কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ। এ দুর্ভিক্ষে বাংলার মানুষ যখন ক্ষুধার জ্বালায় মরছিল তখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তারা লন্ডনে তাদের মনিবদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছিল যে তারা বাণিজ্য হতে ও বিপুল পরিমাণ খাদ্য রপ্তানি করে সর্বোচ্চ মাত্রার মুনাফা অর্জন করেছে!
এ সময় ইংরেজরা পুতুল সরকার হিসেবে মিরজাফরকে নামেমাত্র নবাবের পদে রাখলেও রাজস্ব আদায় ও ব্যয়ের পূর্ণ কর্তৃত্ব পায় তাদের কোম্পানি। আর এই সুযোগে কোম্পানির লোকেরা খাজনা আদায়ের নামে অবাধ লুণ্ঠন ও অত্যাচার শুরু করে দেয়। বিপুল অংকের খাজনা পরিশোধ করতে গিয়ে কৃষকরা অর্থহীন ও শস্যহীন হয়ে পড়েছিল। ফলে তাদের চাষাবাদের ক্ষমতা রহিত হয়ে যায়। এ অবস্থায় আগেই সব শস্য বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ার পর খরা দেখা দেয়ায় কৃষকরা সপরিবারে মারা যায় অনাহারে। ব্রিটিশদের অনুচর মুসলমান-বিদ্বেষী জমিদাররা অতি উচ্চ হারের খাজনা মওকুফ করলে বা খাজনার চড়া হার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনলে এবং কিছুটা খাদ্য ত্রাণ সাহায্য হিসেবে বিতরণ করা হলে এই গণহত্যা ঘটতো না।
সুজলা সুফলা শস্য-শ্যামল ও নদীমাতৃক বাংলা পৃথিবীর সবচেয়ে উর্বর অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাকে বলা হত গোটা ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় শস্য-ভাণ্ডার। গোলা ভরা ধান আর পুকুর ভরা মাছ ছিল সে সময়কার বাংলার সাধারণ চিত্র। গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ছিল পুকুর যা এখনও আছে। কিন্তু ব্রিটিশদের দানবীয় হস্তক্ষেপ আগুন জ্বালিয়ে দিল এই সুখের রাজ্যে। ব্রিটিশরা বাংলার ক্ষমতা দখলের পর থেকে এ অঞ্চলে ত্রিশ থেকে ৪০টি ছোট-বড় দুর্ভিক্ষ হয়েছে। এসব দুর্ভিক্ষে নিহতের যেসব সংখ্যা ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী শাসকরা উল্লেখ করে গেছে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।
বাংলায় ব্রিটিশ শাসকদের মাধ্যমে সর্বশেষ বড় দুর্ভিক্ষটি ঘটানো হয় ১৯৪২ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে। ব্রিটিশদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী এ তিন বছরে কমপক্ষে চার কোটি মানুষ মারা যায় অনাহারে।
১৯৪২ সালের মে মাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জাপানি সেনারা বার্মা দখল করে নেয়। ওদিকে সুভাস চন্দ্র বসুর নেতৃত্বে স্বাধীনতাকামী ভারতের জাতীয় সেনাদলও পূর্ব দিক থেকে ভারতে হামলা করতে পারে বলে ব্রিটিশ দখলদাররা আশঙ্কা করছিল। এ সময় নিষ্ঠুর ব্রিটিশরা পোড়ামাটির নীতি গ্রহণ করে। এ কূটচাল অনুযায়ী জাপানি সেনারা যাতে খাদ্য পেতে না পারে সে জন্য সব খাদ্য কিনে নেয় ব্রিটিশরা। অনেক ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সেনারা খাদ্য লুট করে ও বহু স্থানীয় অধিবাসীকে হত্যা করে। জাপানিদের হাতে বিতাড়িত ব্রিটিশ সেনারা আশ্রয় নিতে থাকে কোলকাতা ও চট্টগ্রামে। ব্রিটিশ সরকার তাদের জন্য খাদ্য কিনতে থাকায় খাদ্যের দাম আকাশস্পর্শী হয়ে ওঠে।
জাপানি সেনারা যাতে বঙ্গোপসাগরে নৌকা ব্যবহার করতে না পারে সে জন্য জেলেদের প্রায় ৭০ হাজার নৌকা আটক করে ব্রিটিশ সরকার। ফলে একদিকে যেমন মাছ ধরা অসম্ভব হয়ে পড়ে তেমনি ধান ও পাট বাজারে আনাও কৃষকদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে সাধারণ মানুষের অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়ে। বিমানবন্দর, সেনা-ঘাঁটি ও শরণার্থী শিবিরের মত নানা স্থাপনা নির্মাণের জন্য ব্রিটিশরা প্রায় দুই লাখ বাঙ্গালির জমি কেড়ে নেয়। ফলে তারা হয়ে পড়ে গৃহহারা।
ব্রিটিশ সরকার ভারতের অন্যান্য অঞ্চল থেকে বাংলায় খাদ্য পাঠানোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। জাপানিরা সম্ভাব্য হামলার সময় যাতে খাদ্য না পায় সে জন্য এই বর্বর পদক্ষেপ নেয় দখলদার ব্রিটিশ সরকার।
অন্যদিকে অপেশাদার ব্যবসায়ীদেরকে এ সুযোগ দেয়া হয় যে তারা যে কোনো অঞ্চল থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে খুব চড়া দামে তা সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবে। এভাবে বাংলার সমস্ত খাদ্য-শস্য জমা হতে থাকে কেবল সরকারি গুদামে। অন্যদিকে খাদ্য-শস্যের দাম আগুন হয়ে ওঠে। আর অসাধু ব্যবসায়ীরা আরও চড়া দামে সরকারের কাছে শস্য বিক্রির আশায় বাজারে খাদ্য না বেচে মজুতদারির আশ্রয় নেয়।
এদিকে ব্রিটিশ সরকার সেনাদের ব্যয়ভার মেটানোর জন্য ব্যাপক পরিমাণ কাগুজে নোট ছাপায়। ফলে দেখা দেয় মুদ্রাস্ফীতি। অন্য কথায় জনগণের কাছে থাকা অর্থের ক্রয়মূল্য কমে যায়। এভাবে দেখা দেয় কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ। কিন্তু দখলদার ব্রিটিশ সরকার তা স্বীকার করেনি এবং জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করেনি, ত্রাণ সাহায্য দেয়া তো দূরের কথা।
যুদ্ধের আগে দখলদার ব্রিটিশ সরকার প্রায় দুই কোটি টন খাদ্য কিনেছিল। ৪২-৪৩ সনে রেকর্ড মাত্রায় উদ্বৃত্ত খাদ্য ছিল বলেও ওই সরকার স্বীকার করেছিল। বাংলার শোচনীয় অবস্থার কথা ব্রিটেনের সংসদে তোলা হয়। ফলে ৪৩ ও ৪৪ সনে ভারতে মাত্র প্রায় ৫ লাখ টন খাদ্য পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। অথচ কেবল ৪৩ সনে ব্রিটেনের ৫ কোটি নাগরিকের জন্য কেনা হয়েছিল এক কোটি টন খাদ্য। ব্রিটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চার্চিল বার বার ভারতে খাদ্য রপ্তানি করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল যদিও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে প্রায় ২৫ লাখ ভারতীয় ব্রিটেনের সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়।
বলা হয় সেই দুর্ভিক্ষে বাঙালীদের মৃত্যুতে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জেনারেল উইনস্টন চার্চিল উল্লাস করেছিল!
অস্ট্রেলিয়ান প্রাণ-রসায়নবিদ ড. গিদেন পলইয়া তৎকালীন বাংলার ঐ দুর্ভিক্ষকে ‘মানবসৃষ্ট গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। কারণ চার্চিলের নীতিই ঐ দুর্যোগের জন্য দায়ী ছিল। ১৯৪২ সালেও বাংলায় বাম্পার ফলন হয়েছিল। কিন্তু ব্রিটিশরা বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য ভারত থেকে ব্রিটেনে নিয়ে যায়। যার ফলে এখানে ব্যাপক খাদ্যাভাব দেখা যায়।
বর্তমান সময়ের পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, বিহার এবং বাংলাদেশে ঐ দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল।
এই কৃত্রিম দুর্ভিক্ষে অনাহারে ধুকে ধুকে মরতে থাকা মানুষের ছবি এঁকে বিখ্যাত হয়েছিলেন শিল্পী জয়নুল আবেদিন।
মধুশ্রী মুখার্জির লেখায় ঐ দুর্ভিক্ষ-পীড়িত মানুষদের কথা উঠে এসেছে। দুর্ভিক্ষে নিহতদের পরিবার সদস্য এবং দুর্ভিক্ষে বেঁচে যাওয়া মানুষদের জবানিতে ঐ চরম সময়ের কথা উঠে এসেছে।
চার্চিলের ঐ গোপন যুদ্ধ নিয়ে তিনি লিখেন: ‘মা বাবারা তাদের ক্ষুধার্ত ছেলেমেয়েদেরকে কুয়াতে ও নদীতে ফেলে দিতো। অনেকে ট্রেনের সামনে নিজেকে ফেলে দিয়ে আত্মহত্যা করতো। ক্ষুধার্ত মানুষ ভাতের মাড় চেয়ে ভিক্ষা করতো। শিশুরা পাতা, ফুল, ঘাস এবং বিভিন্ন তৃণমূল খেত। মানুষ এতই দুর্বল ছিল যে তারা তাদের প্রিয়জনদের দাফন পর্যন্ত করতে পারতো না।’
দুর্ভিক্ষে বেঁচে যাওয়া এক ব্যক্তি মুখার্জিকে বলেন, ‘শেষকৃত্য করার মত কারও গায়ে শক্তি ছিল না। বাংলার গ্রামগুলোতে মরদেহের স্তূপ থেকে কুকুর শিয়ালরা তাদের ভুরিভোজ করতো। মায়েরা খুনিতে পরিণত হয়েছিল, গ্রামগুলো হয়ে পড়ে পতিতা-পল্লী। আর বাবারা ছিল কন্যা সন্তান পাচারকারী।’
মনি ভৌমিক নামের একজন বিখ্যাত চিকিৎসাবিদ, সেই দুর্ভিক্ষ নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, তাকে এক মুঠো খাবার দেয়ার জন্য তার নানী তার অল্প খাবারটুকুও তাকে দিয়ে দিতেন। এতে তিনি না খেয়ে মারা যান।
১৯৪৩ সালে ক্ষুধার্ত মানুষের দল কলকাতায় এসে ভিড় জমায় যাদের বেশিরভাগই রাস্তায় মারা যায়। এরকম ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে হৃষ্টপুষ্ট ব্রিটিশ সেনাদের উপস্থিতিকে ‘ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে শেষ রায়’ হিসেবে দেখেন ইংরেজ-ভক্ত জওয়াহারলাল নেহরু।
চার্চিল খুব সহজেই এই দুর্ভিক্ষটি এড়াতে পারত। এমনকি কয়েক জাহাজ খাবার পাঠাইলেই অনেক উপকার হতো। কিন্তু একে একে দুজন ভাইসরয়ের আবেদনকে একগুঁয়েমির সাথে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এমনকি তিনি তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির আবেদনের প্রতিও কর্ণপাত করেননি।
নেতাজি সুভাস চন্দ্র বসু তখন অক্ষ শক্তির পক্ষ নিয়ে লড়াই করছিলেন। তিনি মায়ানমার (বার্মা) থেকে চাল পাঠানোর প্রস্তাব করেন। ব্রিটিশরা তো তার চাল আসতে দেয়নি এমনকি সুভাস বসুর প্রস্তাবের খবরটি পর্যন্ত চাপা দিয়ে রেখেছিল।
নিষ্ঠুর চার্চিল বাঙালীদেরকে মৃত্যুর মিছিলে রেখে খাদ্য শস্য ব্রিটিশ সেনা ও গ্রিক নাগরিকদের জন্য পাঠাচ্ছিল। তার কাছে ‘ভুখা বাঙালীর না খেয়ে থাকার চেয়ে সবল গ্রিকদের না খেয়ে থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।’ তার এই মতকে সমর্থন দিয়েছিল তৎকালীন ‘ভারত ও বার্মা বিষয়ক’ ব্রিটিশ মন্ত্রী লিওপল্ড এমেরি।
এমেরি ছিল একজন কড়া উপনিবেশবাদী। তারপরও তিনি চার্চিলের ‘হিটলারের মত মনোভাবের’ নিন্দা করেছিল। চার্চিল শস্য পাঠানোর জন্য এমেরির জরুরি আবেদন এবং তৎকালীন ভাইসরয় আর্চিবাল্ড ওয়াভেল এর প্রার্থনার উত্তর দেয় একটি টেলিগ্রামে। সেখানে চার্চিল লিখেছিল, গান্ধী কেন তখনো মরেন নি!
ওয়াভেল লন্ডনকে অবহিত করে যে ঐ দুর্ভিক্ষটা ‘ব্রিটিশ শাসিত অঞ্চলে মানুষের উপর নামা সবচেয়ে বড় দুর্যোগ’। তিনি বলেন, যখন হল্যান্ডে খাদ্যাভাব দেখা দেয় তখন বলা হয় ‘খাদ্য-জাহাজ অবশ্যই সরবরাহ করা হবে। এর উল্টো উত্তরটিই বরাদ্দ থাকে ইন্ডিয়াতে খাবার সরবরাহের বেলায়।’
চার্চিল কি অজুহাতে এখানে খাবার পাঠানোর অনুমতি দেয়নি? বর্তমানে চার্চিলের পরিবারের সদস্য ও তার সমর্থকরা বলার চেষ্টা করেন যে ব্রিটেন জরুরী খাদ্য সরবরাহ কাজে জাহাজগুলোকে নিযুক্ত করতে চাচ্ছিল না। কারণ যুদ্ধের জন্য সব জাহাজ প্রস্তুত রাখতে হয়েছিল। কিন্তু মধুশ্রী মুখার্জির লেখায় সব প্রমাণ বের হয়েছে, সব রহস্য উদঘাটিত হয়েছে যে তখন ঠিকই ব্রিটেনের জাহাজ অস্ট্রেলিয়া থেকে খাদ্য শস্য নিয়ে ইন্ডিয়ার পথ দিয়ে ভূমধ্যসাগরের দিকে রওনা হতো।
ভারতীয়দের প্রতি চার্চিলের বিদ্বেষ একটি জানা ঘটনা। চার্চিল তার ওয়ার কেবিনেট বা যুদ্ধকালীন মন্ত্রীসভার বৈঠকে এই দুর্ভিক্ষের জন্য ইন্ডিয়ানদেরকেই দায়ী করে। ‘এরা খরগোশের মত বাচ্চা পয়দা করে’ -এমন অশালীন মন্তব্যও বের হয়েছে তার মুখ থেকে। ভারতীয়দের প্রতি তার মনোভাব এমেরির কাছে তুলে-ধরা তার বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। চার্চিল বলেছিল ‘আমি ইন্ডিয়ানদের ঘৃণা করি। তারা একটি জঘন্য ধর্মের জঘন্য মানুষ ( বিশ্রী ধর্মের বিশ্রী মানুষ’)’। চার্চিল অন্য এক সময় বলেছিল ‘ভারতীয়রা হচ্ছে জার্মানদের পর সবচেয়ে জঘন্য মানুষ।’
মুখার্জির মতে, ‘ভারতের প্রতি চার্চিলের মনোভাব ছিল একেবারে চরম এবং তিনি ইন্ডিয়ানদেরকে ভীষণ ঘৃণা করতেন। তারা যে আর ইন্ডিয়াকে বেশিদিন নিজেদের করে রাখতে পারছে না -এই অভাব-বোধ থেকেই তার এই তীব্র ঘৃণা জন্মাতে পারে। চার্চিল হাফিংটন পোস্টে লেখেন, অ-শ্বেতাঙ্গ লোকদের পেছনে গম খরচ করা অনেক খরচের ব্যাপার, তাও আবার বিদ্রোহীদের পেছনে যারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কাছে স্বাধীনতা দাবি করে আসছে। চার্চিল তার সংরক্ষিত খাদ্যশস্য যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয়দের খাওয়ানোকেই শ্রেয় মনে করলেন।’
১৯৪৩ সালের অক্টোবর মাস। তখন দুর্ভিক্ষ চরম সীমায়। ওয়াভেলকে নিয়োগ উপলক্ষে একটি বিশাল ভোজ-উৎসবে চার্চিল বলেছিল, ‘আমরা যখন পেছনের বছরগুলোর দিকে তাকাই তখন দেখতে পাই একটি অঞ্চলে তিন প্রজন্ম পর্যন্ত কোন যুদ্ধ নেই, দুর্ভিক্ষ পালিয়ে গেছে। শুধু সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠিত যুদ্ধ আমাদেরকে সেই পুরনো স্বাদ দিচ্ছে…মহামারি আর নেই..ইন্ডিয়ান ইতিহাসে এই সময়কালটা একটি সোনালী অধ্যায় হিসেবে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। ব্রিটিশরা তাদেরকে শান্তি দিয়েছিল, শৃঙ্খলা দিয়েছিল এবং দিয়েছিল গরীবদের জন্য ন্যায়বিচার এবং বিদেশী আক্রমণের শঙ্কা থেকে মুক্তি।’!!!
চার্চিল যে শুধু বর্ণবাদীই ছিল তা নয়, একইসঙ্গে ছিল এক বড় মাপের মিথ্যুকও।
নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, এই দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলায় চার্চিলের পলিসি আসলে ভারতের প্রতি ব্রিটিশদের আগের পলিসিরই অনুকরণ। ভিক্টোরিয়া শাসনকালের শেষের দিকে গণহত্যা বিশেষজ্ঞ মাইক ডেভিস দেখান যে ব্রিটিশদের ১২০ বছরের ইতিহাসে ৩১ টি ভয়ানক দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। অথচ ব্রিটিশদের আসার আগের দুই হাজার বছরে ১৭টি দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল।
তার বইয়ে ডেভিস ঐ দুর্ভিক্ষের গল্পগুলো বলছিলেন যেখানে ২৯ মিলিয়ন ইন্ডিয়ান (প্রায় তিন কোটি ইন্ডিয়ান) মারা গিয়েছিল। ঐ লোকগুলো আসলে ব্রিটিশ পলিসির কারণে মারা গিয়েছিল। ১৮৭৬ সালে খরার কারণে যেখানে ডেকান বা দাক্ষিণাত্যের মালভূমিতে কৃষকেরা সর্বস্বান্ত হচ্ছিলেন সে বছর ইন্ডিয়াতে ধান ও গমের নেট উদ্বৃত্ত হয়েছিল। কিন্তু ভাইসরয় রবার্ট বুলওয়ার লিটন জোর দেন যে ইংল্যান্ডে শস্য রপ্তানি করা থেকে কোন কিছুই তাকে বিরত রাখতে পারবে না।
১৮৭৭ ও ১৮৭৮ সালে দুর্ভিক্ষের চরমসীমায় শস্য ব্যবসায়ীরা রেকর্ড পরিমাণ শস্য রপ্তানি করেছিল। যখন কৃষকরা না খেয়ে মরছিল তখন ‘সবধরনের ত্রাণ কাজকে নিরুৎসাহিত করার জন্য’ সরকার থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।
শুধু শ্রমিক ছাউনিতে ত্রাণ দেয়া হতো। ঐ শ্রমিক ছাউনিগুলোতে যে পরিমাণ খাবার সরবরাহ করা হতো তার চেয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বন্দী শিবিরে বেশি খাবার সরবরাহ করা হতো।
যখন লাখ লাখ ইন্ডিয়ান মারা যাচ্ছিল তখন লিটন ভারতীয়দের কষ্ট লাঘবের কোন চেষ্টাই করেনি। বরং ইন্ডিয়ার সম্রাজ্ঞী হিসেবে রাণী ভিক্টোরিয়ার অভিষেক আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এক সপ্তাহ ব্যাপী ঐ ভোজন উৎসবে ৬৮ হাজার অতিথি আপ্যায়িত হয়েছিল যেখানে রাণী জাতির কাছে ‘সুখ, সমৃদ্ধি ও কল্যাণের’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
১৮৯০’র দিকের দুর্ভিক্ষে প্রায় ১৯ মিলিয়ন ভারতীয় (প্রায় দুই কোটি) মারা গেছে বলে অনুমান দ্য লেনসেট সাময়িকীর। ১৯০১ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই সাময়িকীতে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। মৃত্যুহার এত বেড়ে যাওয়ার পেছনে কারণ ছিল ব্রিটিশরা দুর্ভিক্ষকালীন ত্রাণ বিতরণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
ডেভিস বলেন, ১৮৭২ থেকে ১৯২১ পর্যন্ত এই সময়কালটিতে ভারতীয়দের গড় আয়ু ২০ শতাংশ কমে এসেছিল। তাই এটা খুব বিস্ময়ের ব্যাপার না যে, হিটলারের প্রিয় সিনেমা ছিল ‘দ্য লাইবস্ অব এ বেঙ্গল ল্যান্সার’ যেখানে দেখানো হয়েছিল গোটা কয়েক ব্রিটিশ কিভাবে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আটকে রেখেছিল। নাৎসি নেতা ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এডওয়ার্ড ওড (আর্ল অব হ্যালিফ্যাক্স) এর সাথে বলেন যে, তার প্রিয় সিনেমা ওটা কারণ ‘এভাবেই একটি উচ্চতর জাতির আচরণ করা উচিত’ এবং এই ছায়াছবি দেখা নাৎসিদের জন্য বাধ্যতামূলক বলা হতো।
যেখানে ব্রিটেন অন্যান্য জাতিসমূহের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে সেখানে ইন্ডিয়া এই গণহত্যার বিষয়টি কার্পেটের তলায় লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। মাও মাও হত্যাকাণ্ডের জন্য কেনিয়ার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে ব্রিটেন। অন্যান্য জাতিও আমাদের জন্য ভালো উদাহরণ উপস্থাপন করে রেখেছে।
যেমন ইহুদিবাদী ইসরাইল কথিত গণহত্যা বা হলোকাস্টের কথা বলে এখনো মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আদায় করছে জার্মানির কাছ থেকে এবং তারা জার্মানির কাছ থেকে সামরিক সহায়তাও আদায় করে নিচ্ছে। যদিও অনেকেই মনে করেন যতটা প্রচার করা হয় তার দশ ভাগের একভাগ ইহুদিকেও হত্যা করেনি হিটলারের নাৎসি বাহিনী।
আর্মেনিয়াও দাবি করে যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুর্কি বাহিনী ১৮ লক্ষ আর্মেনিয়ানকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তুরস্ক এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। (তারা বলে, কেবল আর্মেনীয় বিদ্রোহী ও লুটেরাদেরই হত্যা করা হয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রে।) জোসেফ স্ট্যালিনের কাতিয়ান হত্যাকাণ্ডের কথা ভুলবে না পোলিশরা। চাইনিজরা এখনো জাপানের কাছ থেকে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়ে আসছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নানকিং এ ৪০ হাজার খুন হয় এবং অসংখ্য নারী ধর্ষিত হয়। এবং তারপর এক মজার ঘটনা ঘটলো ইউক্রেনে। ইউক্রেনিয়ানরা তাদের দেশে দেখা দেয়া দুর্ভিক্ষের পেছনে স্টালিনের অর্থনৈতিক নীতিকে দায়ী করেছেন। এমনকি তারা এর নতুন নামকরণ করেছেন। নামটা হলোকাস্টের অনেক কাছাকাছি ‘হলোদমোর’।
উল্লেখ্য ১৯৪৩ সালের দিকে মিত্র বাহিনীর হয়ে ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে ২৫ লক্ষ ভারতীয় সেনা যুদ্ধ করেছিল। ব্রিটেনের তেমন কোন খরচ ছাড়া-ই বিশাল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ, কাঁচামাল সরবরাহ করা হয়েছে এখান থেকে। ইউরোপে জাহাজে করে পাঠানোর ক্ষেত্রেও ব্রিটেনের তেমন খরচ করতে হয়নি।
ভারতের কাছে ব্রিটেনের যে ঋণ তা দুদেশের কেউই অবজ্ঞা করতে পারবে না। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক টিম হার্পার ও ক্রিস্টোফার বেইলির মতে, ‘ভারতীয় সেনা, বেসামরিক শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের কল্যাণেই ১৯৪৫ সালের বিজয় সম্ভবপর হয়েছিল। তার মূল্য হচ্ছে খুব দ্রুত ভারতের স্বাধীনতা।’
২৫০ বছরের ঔপনিবেশিক লুটপাটের ক্ষতিপূরণের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ নেই পুরো ইউরোপেও। অর্থের কথা না হয় বাদই দিলাম একটা ক্ষমা প্রার্থনা করার মত সৎ সাহসও কি নাই ব্রিটিশদের? অথবা তারা কি চার্চিলের মত নিজেদেরকে এই আত্মপ্রবঞ্চনা দিয়েই রাখবে যে, ভারতে ইংরেজদের শাসন ছিল একটা ‘স্বর্ণযুগ’ (গোল্ডেন এজ)?
বলা হয় হিটলার লাখ লাখ ইহুদিকে হত্যা করেছিল জাতিগত বিদ্বেষ বা ঘৃণার কারণে। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার কেন কোটি কোটি বাঙালীকে হত্যা করেছিল? ব্রিটিশরা ভারত ছেড়ে যাওয়ার পরও বাংলা ও ভারতে অনেক দুর্ভিক্ষ হয়েছে। কিন্তু এসব দুর্ভিক্ষে যত মানুষ মারা গেছে তার সংখ্যা ব্রিটিশদের সৃষ্ট কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ ও বর্বর আচরণে নিহত মানুষের এক দশমাংশেরও কম হবে।
দুর্নীতিবাজ ও বর্বর ব্রিটিশদের অন্ধ-অনুচর টাইপের একদল বাঙালী ও ভারতীয় বুদ্ধিজীবী বলেন, ব্রিটিশ দখলদাররা নাকি এ অঞ্চলে সুশাসন, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র এনেছে ইত্যাদি!
অথচ এর আগে নবাবদের আমলে, মোঘল শাসনে ও সুলতানি যুগে কখনও এমন নিষ্ঠুরভাবে খাদ্য-শস্যকে গুদামে রেখে সাধারণ জনগণকে হত্যা করেনি কোনো সরকার। ব্রিটিশ শাসকদের এসব অপরাধ মানবজাতির অতীতের সব অপরাধের নৃশংসতাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তাই অনেকেই বলেন, মানবতার বিরুদ্ধে সেইসব অপরাধের জন্য ব্রিটিশ শাসকদের বিচার করা উচিত ছিল আন্তর্জাতিক যুদ্ধ-অপরাধ আদালতে ঠিক যেভাবে জার্মান নাৎসিদের বিচার করা হয়েছিল আন্তর্জাতিক যুদ্ধ-অপরাধ আদালতে। আজও নাৎসিদের খুঁজে বেড়ানো হয় বিচার করার জন্য।
বৃহত্তর বাংলায় যে হলোকাস্ট চালিয়েছিল ব্রিটিশ দখলদাররা সে জন্য কি ব্রিটেনের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা কি উচিত নয়? বাঙ্গালী জাতির যদি মান-সম্মানবোধ বলে কিছু থেকে থাকে তাহলে ৪২-৪৩ সনে ক্ষমতায় থাকা চার্চিল ও তার আগে ক্ষমতায় থাকা ব্রিটিশদের সব অপরাধের ক্ষতিপূরণ আদায় করার জন্য তাদের সক্রিয় হতে হবে। সাদা চামড়ার ইহুদিদের হত্যার জন্য যদি জার্মান নাৎসিদের বিচার হতে পারে তাহলে কালো চামড়ার বাঙ্গালীদের ওপর গণহত্যার বিষয়টি কি তাদের জাতীয় ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না? এ নিয়ে কেনো আজও একটি স্মৃতি-স্তম্ভও গড়া হয়নি?
দেশে দেশে সুপরিকল্পিত নানা গণহত্যার হোতা সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটেন, আমেরিকা, ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং তাদের সহযোগী শক্তিগুলো ও তাদের সেবাদাস সরকার আর অন্ধ অনুসারীদের ধিক্কার দিয়ে আজ বলা উচিত:
এ কোন্ সভ্যতা আজ মানুষের চরম সত্তাকে করে পরিহাস?
কোন্ ইবলিস আজ মানুষেরে ফেলি মৃত্যুপাকে করে পরিহাস?
... জড়পিণ্ড হে নিঃস্ব সভ্যতা!
তুমি কার দাস?
অথবা তোমারি দাস কোন্ পশুদল!
মানুষের কী নিকৃষ্ট স্তর!
যার অত্যাচারে আজ প্রশান্তি; মাটির ঘর: জীবন্ত কবর
মুখ গুঁজে প’ড়ে আছে ধরণীর ‘পর।.....
তাহাদেরি শোষণের ত্রাস
করিয়াছে গ্রাস
প্রশান্তির ঘর,
যেথা মুখ গুঁজে আছে শীর্ণ ধরণীর ‘পর ।
হে জড় সভ্যতা!
মৃত-সভ্যতার দাস স্ফীতমেদ শোষক সমাজ!
মানুষের অভিশাপ নিয়ে যাও আজ;
তারপর আসিলে সময়
বিশ্বময়
তোমার শৃঙ্খলগত মাংসপিণ্ডে পদাঘাত হানি’
নিয়ে যাব জাহান্নাম দ্বারপ্রান্তে টানি’;
আজ এই উৎপীড়িত মৃত্যু-দীর্ণ নিখিলের অভিশাপ বও:
ধ্বংস হও
তুমি ধ্বংস হও।।
[ তথ্যসূত্র: ‘নতুন ঢাকা ডাইজেস্ট’-এ প্রকাশিত ‘ভারতের ভুলে যাওয়া গণহত্যা’, ১১৭৬ সালের মনন্তর (উইকিপিডিয়া) ও Anil Chawla’র লেখা ‘THE GREAT HOLOCAUST OF BENGAL’ ] #
MY FACEBOOK
YOUTUBE CHANNEL
Thursday, May 26, 2016
পাকিস্তানে নিজামীকে খেতাব দেওয়ার প্রস্তাব!
‘নিশান-ই-পাকিস্তান’ নামের এই খেতাবটি পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক খেতাব। পাঞ্জাব পরিষদে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবও পাশ করা হয়েছে।
পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ)-এর আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য আলাউদ্দিন শেখ পাঞ্জাব পরিষদের এক প্রস্তাবে বলেন, মতিউর রহমান নিজামী পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এই জন্যই তাকে বাংলাদেশে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। তাই পাকিস্তানের উচিত নিজামীকে ‘নিশান-ই-পাকিস্তান’ খেতাব দেওয়া।
উল্লেখ্য, এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের সংবিধান অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টাই ছিলো নিজামীর অপরাধ।
জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীকে গত ১১ মে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়।
MY FACEBOOK
YOUTUBE CHENNEL
'বিস্ময় শিশু'!১৪ বার ছুরিকাঘাত, জীবন্ত কবর; তারপরেও বেঁচে রইল
২০ সেন্টিমিটার গভীর গর্ত। তার মধ্যে মুখ উল্টে পড়ে রয়েছে। রক্তাক্ত শরীর। গায়ে একের পর এক ছুরির আঘাতের চিহ্ন। তবে, তখনও প্রাণটা রয়েছে। গোঙানির একটা ক্ষীণ আওয়াজ তখনও শোনা যাচ্ছে। ১৪ বার ছুরির আঘাত, জীবন্ত কবর, সব সহ্য করেও বেঁচে রইল এক 'বিস্ময় শিশু'।
ঘটনাটি গ্রামীণ থাইল্যান্ডের খন কায়েন প্রদেশের। মাটির নীচ থেকে গোঙানির আওয়াজ শুনে স্থানীয় এক গো-পালক ভেবেছিলেন বোধহয় কোনও পোষ্যকে কবর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটু এগোতেই চমকে ওঠেন তিনি। দেখেন গর্ত থেকে উঁকি মারছে ছোট ছোট দুটো পা। এরপরই শুরু হয় খোড়াখুঁড়ি। উদ্ধার করা হয় প্রায় অর্ধমৃত ওই শিশুকে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে শিশুটি।
পরিসংখ্যান বলছে, রক্ষণশীল এই দেশে বিবাহের পূর্বে যৌনমিলন নিষিদ্ধ। কিন্তু, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই দেশেই কৈশোরে গর্ভধারণের হার সবচেয়ে বেশি। আর তাই থাইল্যান্ডে গর্ভপাত নিষিদ্ধ হলেও আকছার গর্ভপাতের ঘটনা ঘটে।
MY FACEBOOK
YOUTUBE CHENEEL
Tuesday, May 24, 2016
‘পুরুষাঙ্গ কবি’:বিপদে বার্মার এক কবি
পুরুষাঙ্গে প্রেসিডেন্টের ছবি আঁকার বর্ণনা দিয়ে বিপদে বার্মার এক কবি তাঁর পুরুষাঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্টের ছবির উল্কি একেঁছেন, এক কবিতায় এমন ইঙ্গিত দেয়ার পর তাঁকে ছয় মাসের সাজা দেয়া হয়েছে।
কবি মং সাউঙ্খা তাঁর লেখা এই কবিতা ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। এরপর ‘পুরুষাঙ্গ কবি’ বলে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
২১ বছর বয়সী এই কবির বিরুদ্ধে এরপর অনলাইনে অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। তাকে এখন এই অভিযোগে ছয় মাস কারাবন্দী থাকতে হবে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন: যাকে নিয়ে কবিতা কবি মং সাউঙ্খা যদিও তাঁর কবিতায় নিজের পুরুষাঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের ছবি উল্কি দিয়ে একেঁছেন বলে বর্ণনা করেছেন, বাস্তবে এমন কিছু ঘটেনি বলে দাবি করছেন তাঁর ঘনিষ্ঠরা।
কবি মং সাউঙ্খা অবিবাহিত। তবে তাঁর বান্ধবী জানান, পুরুষাঙ্গে উল্কি আঁকার বিষয়টি আসলে কবির কল্পনা। মিয়ানমারের সরকার সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের সমালোচনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এরকম সমালোচনামূলক মন্তব্যের জন্য অনেকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
জুতার ওপর সেনা প্রধানের ছবি শেয়ার করা কিংবা সেনাবাহিনীর নতুন ইউনিফর্ম নিয়ে রসিকতা করার কারণেও অনেককে জেলে যেতে হয়েছে।
YOUTUBE CHENNEL
FACEBOOK
Monday, May 16, 2016
এই মেয়েকে বিয়ে করলে যৌতুক ১২০০ কোটি টাকা!
মাথাব্যথা মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই দূর!
বড়সড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব!
ঘুম থেকে জেগে যেসব কাজ ভুলেও করবেন না
ঘুম থেকে ওঠার পরে কী কী করা যেতে পারে সেই বিষয়ে হয়ত অনেক সময় ভেবেছেন। কিন্তু জানেন কি, ঘুম থেকে ওঠার পরে কী কী করা উচিত নয়? জীবনকে আর একটু স্বাস্থ্যসম্মত করে তুলতে ঘুম থেকে উঠে এই ৭টি কাজ করবেন না
১. অ্যালার্ম বন্ধ করে আবার ছোট্ট ঘুম ঘুমিয়ে নেবার জন্য শোবেন না। এতে আপনার শরীর আবার গভীর ঘুমের দিকে যাত্রা করে। কিন্তু কাজের তাড়ায় পর্যাপ্ত ঘুম ঘুমানো আপনার পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলে ঘুম থেকে উঠেও ঘুম-ঘুম ভাব আর যেতে চায় না।
২. ঘুম থেকে উঠে বিছানায় কুঁকড়ে শুয়ে থাকবেন না। বরং আড়মোড়া ভাঙুন। মনঃস্তত্ত্ব বলে, ঘুম থেকে উঠে আড়মোড়া ভাঙলে শরীরে আনন্দের ভাব সঞ্চারিত হয়। যেটা সারা দিনের কাজকর্মেও সঞ্চারিত হয়।
৩. ঘুম থেকে উঠেই নিজের মোবাইলটি ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করবেন না। এতে জীবনের সমস্যা, অপ্রত্যাশিত উপহার, বা প্রিয়জনের প্রত্যাশা— সব কিছুর আবর্তে আচমকা গিয়ে পড়তে হয়। এর জের সারা দিন ধরে বয়ে বেড়াতে হয়।
৪. বিছানা অগোছালো রেখে অন্য কাজে হাত দেবেন না। বরং ঘুম থেকে উঠেই বিছানার বালিশ-চাদর ইত্যাদি ঠিকঠাক করে নিন। দেখবেন, এর ফলে সারা দিনের কাজই গুছিয়ে করবার প্রবণতা বাড়বে আপনার মধ্যে।
৫. ঘুম থেকে উঠেই কফি খাবেন না। মানবশরীরে সাধারণভাবে সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে করিস্টোল নামের একটি হরমোন উৎপন্ন হয়। এই হরমোন উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। ক্যাফিন (যা কফিতে থাকে) এই হরমোনের উৎপাদনে বাধা দেয়। কাজেই কফি যদি খেতেই হয় তাহলে সকাল সাড়ে ৯টার পরে খান।
৬. দিনের কাজের জন্য যখন প্রস্তুত হচ্ছেন তখন অন্ধকারে তৈরি হবেন না। দিনের আলো আমাদের শরীরকে কাজের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করে। তাই ঘুম ভাঙার পরে দিনের আলোর মুখোমুখি হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
৭. ঘুম থেকে ওঠার পরেই সারা দিন কী কী করবেন সেই ভাবনায় ডুবে যাবেন না। বরং ঘুম ভাঙার পর মস্তিস্ককে নিজের ছন্দে চলতে দিন। সে নিজে থেকে যা ভাবার ভাবুক। সচেতন ভাবনাগুলোকে তুলে রাখুন বাকি দিনের জন্য।
Wednesday, February 24, 2016
কন্যা সন্তান জন্মালে লাগানো হয় ১১১টি গাছ
বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ, ইভটিজিংয়ের ঘটনার মধ্যে ভারতের রাজস্থানের একটি গ্রামে শুরু হয়েছে এক অনন্য প্রথা। সেই গ্রামে কন্যা সন্তানের জন্ম হলে রীতিমতো উৎসব পালন করা হয়। তৎক্ষণাৎ লাগানো হয় ১১১টি গাছ।
গ্রামটির নাম পিপ্লান্ত্রি। রাজস্থানের রাজসমা- জেলায় অবস্থিত এই গ্রাম। সেখানে কন্যা সন্তান জন্মালে ১১১টি গাছ লাগানো হয়। গ্রামের মানুষ নিজে থেকেই বেটি বাঁচাও প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। গ্রামবাসীর মতে, কন্যা ভ্রূণ হত্যা রোধ করার এ এক অভিনব প্রয়াস।
কন্যা সন্তানদের সংরক্ষণের পাশাপাশি বটবৃক্ষের সংরক্ষণও যে গুরুত্বপূর্ণ, আর কেউ না জানুক, গ্রামের নিরক্ষর লোকগুলো তা বিলক্ষণ জানে। উদ্যোগটি নিয়েছে সেখানকার গ্রাম পঞ্চায়েত। বিগত ৬ বছর ধরে চলে আসছে এই প্রথা। বাড়ির মেয়েদের বেড়ে ওঠার সঙ্গে বেড়ে ওঠে গাছগুলোও। নিম, আম, আমলা প্রভৃতি গাছ লাগানো হয়েছে সারি বেঁধে। প্রত্যেক বছর প্রায় ৬০টিরও বেশি কন্যা সন্তান জন্মায় সেই গ্রামে। এখনই রুক্ষ রাজস্থানের এই গ্রামটি ভরে গেছে সবুজ গাছে।
মরুভূমির মধ্যে যেমন কখনওসখনও কয়েক ফোঁটা জলের উপস্থিতি পাওয়া যায়, ঠিক তেমনই গাছপালাহীন রাজ্যটিতে এমন একটি গ্রামও আছে যা বাকিদের চেয়ে সতন্ত্র। সেখানে কন্যা জন্মানে বাড়ির লোকে হাঁহুতাশ করে মরে না। শোক করে না। বরং কন্যাকে কোলে নিয়ে খুঁজে বেড়ায় নরম মাটি। ১১১টি বীজ পোঁতে কন্যার মুখে মিষ্টি হাসি ফোঁটাবে বলে। মেয়েদের উপযুক্ত বয়সের আগে যাতে বিয়ে না দেওয়া হয়, সেদিকেও বাবা-মাকে সচেতন করার গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে গ্রাম পঞ্চায়ত। একইসঙ্গে মেয়েদের পড়াশোনার সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে গ্রামটিতে। গ্রামের সার্বিক উন্নতির জন্যই এই সিদ্ধান্ত গ্রাম পঞ্চায়েতের।
FACEBOOK
Monday, February 15, 2016
জেনে নিন এশিয়া কাপের ক্রীড়াসূচি
সামনেই টি২০ বিশ্বকাপ। না, না, ভুলে যাবেন না, এর মধ্যে রয়েছে এশিয়া কাপ। কিন্তু কবে থেকে শুরু। কবে কার খেলা, কিছুই তো জানা নেই। তাই আপনাদের জন্য এশিয়া কাপের সূচি দেওয়া হল।
১৯ ফেব্রুয়ারি - কোয়ালিফাইং গ্র্রুপ, আফগানিস্থান বনাম ইউনাইটেড আরব এমিরেটস
১৯ ফেব্রুয়ারি - কোয়ালিফাইং গ্র্রুপ, হংকং বনাম ওমান
২০ ফেব্রুয়ারি - কোয়ালিফাইং গ্র্রুপ, আফগানিস্থান বনাম ওমান
২১ ফেব্রুয়ারি - হংকং বনাম ইউনাইটেড আরব এমিরেটস
২২ ফেব্রুয়ারি - কোয়ালিফাইং গ্র্রুপ, আফগানিস্থান বনাম হংকং
২২ ফেব্রুয়ারি - কোয়ালিফাইং গ্র্রুপ, ওমান বনাম ইউনাইটেড আরব এমিরেটস
২৪ ফেব্রুয়ারি - ভারত বনাম বাংলাদেশ - মীরপুর
২৫ ফেব্রুয়ারি - শ্রীলঙ্কা বনাম যোগ্যতা নির্ণায়ক দল, - মীরপুর,
২৬ ফেব্রুয়ারি - বাংলাদেশ বনাম যোগ্যতা নির্ণায়ক দল, - মীরপুর,
২৭ ফেব্রুয়ারি - ভারত বনাম পাকিস্তান, মীরপুর,
২৮ ফেব্রুয়ারি - বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা, মীরপুর,
২৯ ফেব্রুয়ারি - পাকিস্তান বনাম যোগ্যতা নির্ণায়ক দল, মীরপুর,
১ মার্চ - ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা, মীরপুর,
২ মার্চ - বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান, মীরপুর,
৩ মার্চ - ভারত বনাম যোগ্যতা নির্ণায়ক দল, মীরপুর,
৪ মার্চ - পাকিস্তান বনাম শ্রীলঙ্কা, মীরপুর,
৬ মার্চ - ফাইনাল - মীরপুর,
এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দল: মাশরাফি বিন মর্তুজা, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, নুরুল হাসান সোহান, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, আরাফাত সানি, মুস্তাফিজুর রহমান, আল আমিন হোসেন, তাসকিন আহমেদ ও আবু হায়দার রনি।
FACEBOOK
Wednesday, February 10, 2016
বাজারে দ্বিমুখী চার্জিং ডাটা ক্যাবল!
১৫ ঘণ্টা মর্গে, কবরে দেয়ার ঠিক আগে কেঁদে উঠল শিশু
ডাক্তারসাহেব বলে দিয়েছেন, ‘প্রাণ নেই’!
তার পর গোটা একটা রাত সে ছিল মর্গে! আরো ঠিকঠাক ভাবে বলা হলে, ১৫ ঘণ্টা। যে মর্গের তাপমাত্রা শুনলে ভয়ে আমার-আপনার হাড় জমে যাবে! শূন্যের ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে।
সকাল হতে যখন তাকে কবর দেয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সেই সময়েই হঠাৎ ধুকপুক করে উঠল সেই একরত্তি দেড় মাসের শিশু কন্যার বুক। তার দেহে প্রাণ ফিরে এলো!
কোনো কল্প-কথা নয়। বুজরুকি নয়। একেবারে সত্যি।এই ঘটনাটা ঘটেছে পূর্ব চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের পানানে। গত শুক্রবারে।
স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেল ওই খবর দিয়ে জানিয়েছে, কবর-স্থানের কর্মীরা যখন ওই শিশুটিকে কবর দেয়ার তোড়জোড় করছিলেন, তখন হঠাৎই সেই শিশুটি কেঁদে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে তারা খবর পাঠান শিশুটির বাবা, মাকে। তারা ছুটতে ছুটতে আসেন। শিশুটিকে নিয়ে যান একটি হাসপাতালে। সেখানে তাকে রাখা হয় ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে।শিশুটিকে দেখে চোখ একেবারে ছানাবড়া হয়ে গিয়েছে পানান হাসপাতালের ডাক্তারসাহেবদের।
এক চিকিৎসক বলেছেন, ‘‘আমি জীবনে কখনো এমন ঘটনার কথা শুনিনি। মিরাক্ল!’’ জানুয়ারি মাসে এই হাসপাতালেই জন্মেছিল শিশুটি। জন্মের সময়েও কিছু শারীরিক ত্রুটি ছিল বলে টানা ২৩ দিন সদ্যোজাতকে রাখা হয়েছিল ইনকিউবিটারে। হৃদ-স্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি শিশুটিকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করেন ডাক্তারসাহেবরা। তবে মর্গে পাঠানোর আগে তাকে মোটা দু’টি কাপড়ে মুড়ে দিয়েছিলেন তার বাবা।
হয়তো সেটাই মর্গের হাড়-জমানো ঠাণ্ডার হাত থেকে কিছুটা বাঁচিয়েছিল শিশুটিকে! এমনটাই মনে করছেন ডাক্তারসাহেবরা।
<b>FACEBOOK
Sunday, February 7, 2016
আপনি কিভাবে মৃত্যুবরন করতে চান?
আপনি কিভাবে মৃত্যুবরন করতে চান? লেখার হেডলাইন পরে আপনি আমাকে নাস্তিক ভাবতে পারেন কারন কখন আপনার মৃত্যু হবে তা এখানে দৃশ্যমান করা হয়েছে।তার মানে আপনি আপনার পছন্দমতে মরতে পারবেন।আমি নাস্তিক না ভাই। আমি এক ইৃশ্বরবাদে বিশ্বাসী এবং মুসলমান।তাই আপনি খাটি মুসলমান বলে ঘোষনা দিয়ে আল্লাহ-হু-আকবার বলে আমার উপর ঝাপিয়ে পরে আমাকে হত্য করবেন।আজরাইলের রুপ ধরে আপনি আমার জীবন কেড়ে নিচ্ছেন প্রকৃতি বিরোদ্ধ আচরন করে।তার মানে আমার জীবনটা আপনার হাতে।তাহলে বলব আপনি নাস্তিক।কারন স্বাভাবিক মৃত্যুটাকে আপনিই মানেন না।আর আল্লাহর দেয়া বিধানটাকে আপনিই প্রথমে লঙ্গন করছেন।
হে আমাকে যদি নাস্তিক মনে হয় তাহলে আসুন আমাকে খুব নম্র ভদ্র ভাবে দাওয়াত দিন একদিন দুদিন তিনুদন দশদিন দশবছর ধরে।কেন আমাকে হত্যা করবেন?মানুষকে হত্যা করে ধর্মৃপ্রচার,কোন ধর্মে আপনাকে এ অধিকার দিয়েছে।
সেলফ মরসি নামে বিভিন্ন দেশে আইন হচ্ছে।দেয়া হচ্ছে স্বাধীনতা।ধর্মৃ পরিপন্থি হলেও তবুও তাও ভালো।কারন রাস্তায় বের হয়ে অথবা রুমের ভিতর অপ্রত্যাশিত ভাবে আপনার হাতে মরতে হবে না।
আপনি কেমন মুসলমানরে ভাই?চোরের মত হত্যা করে আপনি পালিয়ে যান?চোরের মত পালিয়ে না গিয়ে বীরের বেশে আসুন টিক যেমন করে দাওয়াতী লোকেরা রাস্তায় দাওয়াত দিতে বের হয় আদবের সহিত।এখন ত আর সেই যুগ নেই যে রাস্তায় বের হলে ইট ছুরে মারবে।বরং এসব লোকদের দেখলে মানুষ রাস্তাঘাঠে যে যে অবস্থায় থাকে সে অবস্থাতেই তাদেরকে সম্মান করে।তাহলে আপনারা কেন এভাব মানুষকে হত্যা করবেন?জিহাদ করতে হলে কবরের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন যেন কবরে যাবার পর কবর আপনাকে চেপে না ধরে আর কবর হয়ে উঠে ফুলের বাগান।
আমি খুব সাধারন মানুষ।তাই অমোঘ মৃত্যুর নিয়মে আমি মৃত্যুবরণ করতে চাই।যে মৃত্যুতে কোন ভয় থাকবে না।আমার লাশটা গায়েব হবার আশংকা থাকবেনা।থাকবেনা লাশের গায়ে কোন কলংকের ছাপ।আমি সেই মৃত্য চাই যে মৃত্যুর পরে আমার দেহটা মাটির নিচে ইসলামি আদব অনুযায়ি রাখা হবে।
আমি বলবনা কাজি নজরুল ইসলামের মত মসজিদের পাশে আমাকে কবর দিতে। আমি বলব আমার কবরের উপর যেন কোন এক সময় বা কোন এক যুগে খুব ছোট্র একটি মসজিদ হয় যেন সই সব নামাজি লোকদের সাথে আমি প্রতি ওয়াক্তে নামাজ আদায় করতে পারি।
FACEBOOK
FACEBOOK FAGE
Sunday, January 31, 2016
একদিনে তিন ভাইয়ের যৌতুকবিহীন বিয়ে
নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় এক পিতা একদিনে তার তিন শিক্ষিত ছেলের যৌতুকবিহীন বিয়ের আয়োজন করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আমলাব ইউনিয়নের দক্ষিণ বটেশ্বর গ্রামে।
বিয়ের আয়োজন দেখতে সকাল থেকেই আশপাশের গ্রাম হতে দল বেঁধে মানুষ ছুটে আসে বিয়ে বাড়িতে। নাজির মৃধার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন তার ছেলেদের বিয়ের আয়োজনটা স্মরণীয় করে রাখবেন।
সে অনুযায়ী তিন ছেলের যৌতুকবিহীন বিয়ে ঠিক করেন একইদিনে। অনার্স পাস চাকরিজীবী বড়ছেলে কাউছার মৃধাকে (২৮) একই উপজেলার বারৈচা গ্রামের আব্দুল হাই-এর অনার্স পাস মেয়ে সিমু আক্তারের সাথে, দ্বিতীয় ছেলে বিএ পাস কবির মৃধার (২৬) বিয়ে একই উপজেলার উজিলাব গ্রামের চাঁন বাদশার অনার্স পড়ুয়া মেয়ে ফাতেমা আক্তারের সাথে, বিএ পড়ুয়া ছোট ছেলে মো. করিম মৃধার (২৩) বিয়ে নরসিংদীর আব্দুল মোতালিবের অনার্স পড়ুয়া কন্যা হূদয়া আক্তার রিপার সাথে আয়োজন করেন।
তিন ছেলের বরযাত্রীর গাড়িবহর তিনভাগে বিভক্ত হয়ে রওয়ানা হয় বিকাল সাড়ে তিনটায় কনেদের বাড়িতে। বর কাউছার মৃধা জানান, তিন ভাইয়ের একসাথে বিয়ে করার আনন্দটা অন্যরকম লাগছে। তাছাড়া যৌতুকবিহীন বিয়ে করাতে আমরা তিনভাই সবচেয়ে বেশি খুশি।
নাজির মৃধা জানান, তিন ছেলের যৌতুকবিহীন এ বিয়েটা স্মরণীয় করে রাখতে আমার এই ব্যতিক্রমী আয়োজন।
MY FACEBOOK
Wednesday, January 27, 2016
NO ইন্টারেস্ট অষ্টাদশী সানিতে
মুখে স্বীকার না করলেও অনেক পুরুষের স্বপ্নচারিনী সানি লিওন। ষোল থেকে আটষট্টি লিওনির দিকে আড় চোখে তাকান না, এমন ছেলে খোঁজা আর তেলে জেলে এক করা প্রায় এক। তবে অষ্টাদশী সানিতে নাকি পাত্তা দিত না কোনও ছেলেই। শুনলে অবাক লাগলেও, পুরুষ মহলে সানি ছিলেন আউট অফ ফোকাস। সম্প্রতি নিজের মুখে এমনটাই জানালেন বেবিডল।
বলিউডে সানির আপকামিং মুভি ‘ মস্তিজাদে’। এই ছবির প্রচারে শহরে শহরে ঘুরছেন নায়িকা। আর সানিকে একটিবার চোখের দেখা দেখতে উপচে পরছে তাঁর পুরুষ ফ্যানদের ভিড়। এই প্রচারে এসেই সানি বলেন, “ কলেজে পড়ার সময় আমাকে কোনও ছেলে পাত্তা দিত না। আসলে আমি খুব সাধারণ ছাত্রী ছিলাম। তাই সব সময় পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত থাকতাম। সেকারণে আমার বন্ধু সংখ্যাও ছিল কম”। এছাড়া তিনি আরও জানান, “ পড়াশোনায় না ভাল হলেও কলেজে পড়ার সময় থেকেই তিনি ব্যবসা ভাল বুঝতেন। কারণটা অবশ্য তাঁর মার্কেটিংয়ে ইন্টারেস্ট। ১৮ বছর বয়সে ভিডিও এডিটিং, ফটোশপ ছাড়া তিনি আরও অনেক কিছু জানতেন”।
নীলছবির দুনিয়া ছেড়ে সানি এখন বলিপাড়ার কুইন। তবে শুধু হিন্দি ছবি নয় পাঞ্জাবি ছবিতেও অভিনয় করতে চান লিওনি। সানির কথা, “ জন্মসূত্রে আমি পাঞ্জাবি। অভ্যাস না থাকায় এই ভাষাটা সঠিক ভাবে বলতে পারি না। কিন্তু বুঝতে পারি। সুযোগ পেলে আমি অবশ্যই পাঞ্জাবি ছবিতে অভিনয় করব”।
MY FACEBOOK
পিঁপড়া মেরে কোটিপতি: ক্রমশ কোটিপতির সংখ্যা ছাড়াচ্ছে
বাংলাদেশে এখন কোটিপতির সংখ্যা একলক্ষ্যেরও বেশি। যদিও ব্যক্তি পর্যায়ে করদাতা মাত্র সাড়ে ১৭ লক্ষ্য মানুষ কর দিচ্ছেন। জাতীয় সংসদে এই তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংকগুলিতে জমা থাকা এবং আগাম অর্থের হিসাবে দেশে কোটিপতির সংখ্যা ১ লাখ ১৪ হাজার ২৬৫জন। এই হিসাব ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ব্যাংকে জমা থাকা টাকার হিসাবে। তবে ব্যক্তি পর্যায়ে করদাতা মাত্র ১৭ লাখ ৫১ হাজার ৫০৩ জন বলে জানান বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী।
সোমবার পার্লামেন্টে এক প্রশ্নের জবাবে মি. মুহিত জানান, গত পাঁচবছরে বাংলাদেশে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে। ২০১১ সালে বাংলাদেশে কোটিপতির সংখ্যা ছিল ৭৮ হাজার ১৫০জন। ২০১২ সালে ছিল ৯০ হাজার ৬৫৫জন, ২০১৩ সালে ছিলেন ৯৮ হাজার ৫৯১জন, ২০১৪ সালে ছিলেন ১ লাখ ৮ হাজার ৯৭৪জন।
MY FACEBOOK
Tuesday, January 19, 2016
‘আশরাফুল বিশ্বাসঘাতক, সিডন্স মিথ্যাবাদী’-মাশরাফি বিন মুর্তজা
মোহাম্মদ আশরাফুলকে বিশ্বাসঘাতক এবং সাবেক কোচ জেমি সিডন্সকে মিথ্যাবাদী বললেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ক্রীড়া সাংবাদিক দেবব্রত মুখোপাধ্যয় রচিত মাশরাফি বিন মুর্তজাকে নিয়ে লেখা ‘মাশরাফি’ নামক বইয়ে আশরাফুল এবং সিডন্স সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে এমন কথা বলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের রঙিন জার্সির অধিনায়ক।
মূলত: বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে আশরাফুলকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করলেন মাশরাফি। দীর্ঘ সময়ের সতীর্থকে নিয়ে মাশরাফির এমন মন্তব্যে অবশ্য বিতর্কের ঝড় উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে, মাশরাফি এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি তার পুরো ক্যারিয়ারে ‘বিতর্ক’ শব্দটাকেই সুকৌশলে এড়িয়ে গেছেন।
কিন্তু এ সময়ে এসে নিজের নামে বইটিতে দীর্ঘদিনের সতীর্থকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে মন্তব্য করে বেশ বিতর্কেরই সৃষ্টি করলেন মাশরাফি। বিপিএল ফিক্সিংয়ের সঙ্গে আশরাফুলের জড়িত হওয়ার বিষয়টি কোনভাবেই মেনে নিতে পারেননি নড়াইল এক্সপ্রেস। সতীর্থের এমন কা-ে তিনি খুবই হতাশ। দেবব্রত মুখোপাধ্যয় মাশরাফির সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে এক জায়গায় জিজ্ঞাসা করেছেন, ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে আপনি কি আশরাফুলকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করবেন?
মাশরাফি জবাবে বলেছিলেন, ‘অবশ্যই। তিনি তো তাই। তিনি হয়তো সরাসরি দেশের ক্ষতি হয়- এমন কোন কাজ করেননি; কিন্তু তিনি তো লাখ লাখ সমর্থকের বিশ্বাস ভঙ করেছেন! এই দৃষ্টিকোণ থেকে তো, অবশ্যই আপনি তাকে বিশ্বাসঘাতক বলতে পারেন।’
বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে স্পট ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্তৃক গঠিত ট্রাইব্যুনাল ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে তাকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে প্রথমে আট বছরের জন্য, পরে সেটা কমিয়ে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপর আরও দুই বছর কমানো হয় তার শাস্তির মেয়াদ। যে কারণে, চলতি বছরই আগস্টে আবারও আশরাফুল ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন।
জেমি সিডন্সকে সরাসরি মিথ্যাবাদী বললেন মাশরাফি। ঘরের মাঠে ২০১১ বিশ্বকাপের আগে কোচ সিডন্স মাশরাফিকে কথা দিয়েছিলেন প্রাথমিক স্কোয়াডে নিয়ে ফিটনেস পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে দেখবেন; কিন্তু সিডন্স তাকে প্রথমে আশ্বাস দিলেও, পরে তা বেমালুম অস্বীকার করেন। যে কারণে সিডন্সকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দিলেন ম্যাশ।
‘মাশরাফি’ বইতেই উল্লেখ আছে বিষয়টা। মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেন, ‘নতুন করে বিতর্ক টেনে আনার কোনো মানে হয় না। আমি শুধু তার মিথ্যা কথা বলা দেখে খুব অবাক হয়েছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিলেন, তোমাকে নিশ্চয় প্রাথমিক স্কোয়াডে রাখা হবে। সেখানেই তোমার ফিটনেস দেখা হবে এবং এরপরই সিদ্ধান্ত নেবো তোমাকে রাখা হবে কি হবে না। আমি চিন্তা করলাম, এটা অনেক বড় সুযোগ এবং মোহামেডানের হয়ে একটি ম্যাচও খেলে ফেললাম। অথচ, তিনি (সিডন্স) পুরোপুরি তা অস্বীকার করে গেলেন। আপনাদের অনেকেই হয়তো দেখেছিলেন, একদিন ইনডোরে আমি তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তখন তাকে বলেছিলাম যে, যেকোনো জায়গায় মিথ্যা বলতে পারাটা তোমার স্বভাব, তা আমি জানতাম না। এবার সেটাই জানলাম আমি।’
FACEBOOK
YOUTUBE CHANNAL
Friday, January 8, 2016
বড় হচ্ছে বাংলাদেশ, মানচিত্রে যোগ হলো ১০ লাখ হেক্টর নতুন ভূমি
চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বরিশাল, খুলনাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সাগরের বুক চিরে জেগে উঠছে নতুন নতুন ভূখ-। এর পরিমাণ কমছে কম ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার।
আর এসব ভূমি অন্তর্ভুক্ত করে সরকার চলতি বছর নতুন মানচিত্র করতে যাচ্ছে, যাকে বাংলাদেশ বড় হতে চলেছে।
বছরেই নতুন মানচিত্র হবে বাংলাদেশের। চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বরিশাল, খুলনাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সাগরের বুক চিরে জেগে উঠছে নতুন নতুন ভূখ-। এসব নতুন ভূখ-ের কোনোটিতে শুরু হয়েছে কৃষিজ পণ্যের উৎপাদন।
কোনোটিতে আবার চলছে বনায়নের কাজ। আবার বাংলাদেশের সীমায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাওয়ায় কোনোটিতে ভূমিহীনরা শুরু করেছে বসতিও। ১৪৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সন্দ্বীপের তিন পাশে গড়ে ওঠা নতুন ভূমির পরিমাণ মূল সন্দ্বীপের প্রায় দ্বিগুণ!
আবার নোয়াখালী জেলা ঘিরে গড়ে উঠেছে নিঝুম দ্বীপ, চরকবিরা, চরআলীম, সাগরিয়া, উচখালী, নিউ ডালচর, কেরিং চরসহ প্রায় ৫,০০০ বর্গকিলোমিটারের নতুন ভূমি। এ জেলার দক্ষিণ প্রান্তে জেগে ওঠা নতুন ভূমির মধ্যে প্রায় ৭,০০০ হেক্টরে বনায়নও করেছে বন বিভাগ। একইভাবে নতুন ভূমি জেগে উঠেছে খুলনার সুন্দরবন এলাকা ঘিরেও।
নতুন এ ভূমি খুলে দিচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। কারণ নতুন ভূখ-ে ভূমিহীনদের পুনর্বাসন করা, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো ও বেকারত্ব হ্রাসের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই এলজিইডি, জনস্বাস্থ্য, কৃষি, ভূমি, বন বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের ছয়টি বিভাগের সমন্বয়ে কাজ করছে বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা।
নেদারল্যান্ডস ও ইফাডের আর্থিক সহায়তায় ১৯৭০ সাল থেকেই এমন সমন্বিত কাজ করছে বাংলাদেশ। সমন্বিত এমন কার্যক্রমের সুফলও মিলছে। প্রতি বছর গড়ে অন্তত ২০ বর্গকিলোমিটার নতুন চরের দেখা মিলছে। তবে নদী ও সমুদ্র উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে ব্যাপক ভাঙনের কারণে গড়ে হারিয়ে যাচ্ছে এর আট বর্গকিলোমিটার।
সংশ্লিষ্ট সব সূত্রে আলাপ করে জানা গেছে, ভাঙাগড়ার এ খেলার মাধ্যমেই গত চার দশকে বাংলাদেশের ভূখ-ে যুক্ত হয়েছে অন্তত ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার বা ১০ লাখ হেক্টর নতুন ভূমি। ক্রসড্যাম ও বনায়নের চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে এর সঙ্গে আরো ২০,০০০ বর্গকিলোমিটার বা ২০ লাখ হেক্টর ভূমি যুক্ত হওয়ারও সম্ভাবনার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, জেগে ওঠা নতুন ভূমি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করতে কাজও শুরু করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। জেগে ওঠা নতুন ভূমির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে ২০১৬ সালেই কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন নামে নতুন একটি আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে এ মন্ত্রণালয়।
এ প্রসঙ্গে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বলেন, ‘২০১৬ সালেই নতুন আইন চূড়ান্ত করব আমরা। এ আইনের খসড়ায় ভূমি ব্যবস্থাপনা, ভূমি উন্নয়ন, ভূমি ব্যবহার ও কৃষিজমি সুরক্ষাসহ ভূমি-সংক্রান্ত বিষয়াদি থাকবে। এজন্য ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে নিয়ে বৈঠকও করেছি আমরা।’
একই প্রসঙ্গে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বললেন, ‘ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হাইকোর্টেরও নির্দেশনা আছে। এজন্য ভূমি ব্যবহার বাস্তবায়ন নামক একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি ভূমি শ্রেণীকরণের কাজ করছে। ২০১৭ সালের জুন মাসের মধ্যে এই শ্রেণীকরণের কাজ শেষ হবে।’
জানা গেছে, বাংলাদেশের সমুদ্রতটে জেগে ওঠা নতুন ভূখ- ব্যবহার উপযোগী করতে সরকারের সঙ্গে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিস (সিআইজিএস), চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট (সিডিএসপি), অ্যাকুয়াচারি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইডিপি), ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংসহ (আইডব্লিউএস) এক ডজন সংস্থা। জেগে ওঠা নতুন ভূমির ফিসিবিলিটি স্টাডি করে এটি ব্যবহারের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করে সরকারকে অবহিতও করছে তারা।
যেভাবে টেকসই হয় নতুন ভূমি
নোয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আমির হোসেন জানান, সাগরের বুকে জেগে ওঠা নতুন ভূমিকে টেকসই করতে প্রথমে বনায়নের কাজ শুরু করে বন বিভাগ। ১৫ থেকে ২০ বছর বনায়ন করা হয়। নরম মাটিকে শক্ত করতে প্রথমে রোপণ করা হয় কেওড়া গাছ। এরপর পর্যায়ক্রমে রোপণ করা হয় বাইন, করমচা, পুনাইল ও কাঁকড়া গাছের চারা। এসব গাছ চরের নরম মাটিকে শক্ত করে। ১০ থেকে ১৫ বছর পর এসব গাছ বড় হয়ে মাটি আঁকড়ে রাখে। তখন নতুন ওই ভূখ- মানুষের বসবাসযোগ্য হয়।
যেসব নতুন ভূমিতে বড় হবে মানচিত্র
সন্দ্বীপের উত্তরে বামনী নদী এবং পশ্চিমে মেঘনা নদী। এরও পশ্চিমে হাতিয়া দ্বীপ। পূর্বে সন্দ্বীপ চ্যানেল। এ চ্যানেলের পূর্ব প্রান্তে চট্টগ্রাম। আর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রামের সীতাকু- উপকূলের বর্তমান দূরত্ব ১০ মাইল। নোয়াখালী থেকে ১২ মাইল এবং হাতিয়া থেকে ২০ মাইল। কিন্তু বর্তমানে এ দূরত্ব ক্রমশই কমছে। কারণ সন্দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের আজিমপুর এলাকা থেকে উত্তর-পশ্চিম কোণের দীর্ঘাপাড় ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় জেগেছে নতুন ভূমি।
আবার উত্তর-পশ্চিম অংশে থাকা উড়িরচরের দক্ষিণে জেগে উঠেছে আরো প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ লক্ষ্মীচর ও ভবের চর। নতুন ভূমি জেগেছে সন্দ্বীপের পূর্ব প্রান্তেও। এ দ্বীপের উত্তরেও জেগে উঠেছে কয়েক হাজার হেক্টর নতুন ভূমি। এরই মধ্যে এ ভূমির একটি অংশকে দীর্ঘাপাড় ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ ইউনিয়নে বসবাস শুরু করা কয়েক হাজার ভূমিহীন পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ২০১১ সালের জুন মাসে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে প্রশাসক। ২০১২ সালে নতুন এ ইউনিয়নে নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিও নির্বাচন করা হয়েছে।
সন্দ্বীপের আশপাশে জেগে ওঠা নতুন ভূখ-ে এখন চলছে কৃষিকাজ। নতুন চরের বিস্তীর্ণ ঘাস ব্যবহার করে হাজার হাজার গরু, ছাগল ও মহিষ লালন-পালন করছে নিম্নবিত্তের মানুষ।
সন্দ্বীপের উপজেলা চেয়ারম্যান মাস্টার শাহজাহান বিএ বলেন, ‘জেগে ওঠা নতুন ভূমির পরিমাণ সন্দ্বীপের মূল ভূখ-ের প্রায় দ্বিগুণ। যথাযথভাবে ব্যবহার করা গেলে এ ভূখ- খুলে দেবে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার।’
নতুন ভূমিতে গড়ে ওঠা দীর্ঘাপাড় ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘যে হারে চর জাগছে তাতে সন্দ্বীপের উত্তর সীমান্তের ভবানী নদী ভরাট হয়ে হয়তো লেগে যাবে উড়িরচরের সঙ্গে। তখন সন্দ্বীপের আয়তন আরও বাড়বে।’
নোয়াখালী জেলার হাতিয়া দ্বীপ সংলগ্ন নতুন ভূমি নিঝুম দ্বীপেও শুরু হয়েছে মানুষের বসবাস। এ অঞ্চলের ঘন বনাঞ্চলে চরছে হরিণ, বানরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী। নিঝুম দ্বীপের পাশে এখন নতুন করে জেগেছে চরকবিরা নামক একটি এলাকা। একটু দূরে গেলে দেখা মিলছে চরকালাম, চরআলীম, সাগরিয়া, উচখালী, নিউ ডালচর নামক নতুন নতুন ভূখ-ের। হাতিয়া দ্বীপের দক্ষিণ এবং উত্তর প্রান্তেও জেগে উঠেছে নতুন ভূমি। একই অবস্থা দেখা গেছে কেরিং চরের দক্ষিণ প্রান্তেও।
উপকূলীয় এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হিসাব মতে, গত চার দশকে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন পয়েন্টে ১০ লাখ হেক্টর নতুন ভূমি পেয়েছে বাংলাদেশ। জেগে ওঠা এসব ভূমির মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই হচ্ছে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও ভোলা জেলায়।
ক্রসড্যামের মাধ্যমে নতুন ভূমি উদ্ধার প্রসঙ্গে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরিচালিত একটি প্রকল্প প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, ১৯৫৭ সালে এ অঞ্চলে প্রথম ক্রসড্যাম দিয়ে ২১ হাজার হেক্টর নতুন ভূমি উদ্ধার করে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে নোয়াখালীতে রামগতি নামক এলাকাকে মূল ভূখ-ের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।
আবার ১৯৬৫ সালে ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ আরও একটি ক্রসড্যাম তৈরি করে সোনাপুর রেলস্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয় চরজব্বার নামক এলাকাকে। এতে উদ্ধার করা হয় প্রায় ৭৯ হাজার হেক্টর নতুন ভূমি।
সিডিএসপি প্রকল্পের এক কর্মকর্তা জানান, মেঘনা নদী, হাতিয়া ও সন্দ্বীপ চ্যানেলে পরিচালিত পৃথক তিনটি প্রজেক্টে তারা ২৫,৮৯৯ একর ভূমিতে এরই মধ্যে ১৮,৫১৬ পরিবারকে পুনর্বাসন করেছেন।
এদিকে, ভোলার মনপুরা দ্বীপেও নতুন ভূখ- পেয়েছে বাংলাদেশ। সুন্দরবন ও সাতক্ষীরা রেঞ্জের আশপাশে যুক্ত হওয়া নতুন ভূখ-কে বিবেচনায় আনলে সব মিলিয়ে সীমানায় যুক্ত হওয়া নতুন ভূখ-ের পরিমাণ হবে অন্তত ১০ লাখ হেক্টর।
জেগে ওঠা নতুন ভূখ-ের সম্ভাবনাজেগে ওঠা নতুন ভূখ-ের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে সন্দ্বীপের সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতা বলেন, ‘নতুন ভূমিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এ ভূমি কৃষিজ কাজে ব্যবহার করেও কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় করতে পারে সরকার।’ একই প্রসঙ্গে হাতিয়ার সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস বলেন, ‘নতুন ভূখ- সংরক্ষণ করা গেলে বদলে যাবে বাংলাদেশের মানচিত্র। বদলানো সম্ভব দেশের অর্থনীতিও। এ জন্য নতুন ভূমির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আশার কথা যে, এজন্য কাজও শুরু করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।’ MY FACEBOOK MY YOUTUBE CHANNAL
Thursday, January 7, 2016
রোবট দিয়ে ক্যানসার জয় করার পথে বাংলাদেশ
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের এক বিজ্ঞানীর দারুণ সাফল্যের খবর৷ ড. তাহের এ সাইফের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী ‘জীবন্ত রোবট' উদ্ভাবন করেছেন৷ এখন ‘রোবট বিপ্লব' ঘটানোর দ্বারপ্রান্তে৷ সেটা সফল হলে ক্যানসার জয় করা সম্ভব হবে!
নিউইয়র্ক টাইমস-এর ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সংখ্যায় পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী এক কলামনিস্ট লিখেছেন, ২০১৬ সালে প্রযুক্তিতে সবচেয়ে বড় বিপ্লব ঘটাতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি গবেষণা৷ গবেষক দলের নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশের ড. তাহের এ সাইফ৷ তাঁর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ইতিমধ্যে ‘জীবন্ত রোবট' উদ্ভাবনের স্বপ্নপূরণ করেছেন৷
আণুবীক্ষণিক এই রোবট মানুষের রক্তনালিতে সাঁতার কাটতে পারে৷ ড. তাহের এ সাইফ ও তাঁর ছাত্ররা হৃৎপিণ্ডের কোষ থেকেই তৈরি করেছেন বায়ো-বট বা ‘জীবন্ত রোবট'৷ এখন চলছে স্টেমসেল থেকে নেওয়া নিউরন আর পেশিকোষের সমন্বয়ে জৈব রোবট তৈরির চেষ্টা৷ চলমান গবেষণা সফল হলে নিউরনগুলো কখন, কোথায় যাওয়া দরকার তা নিজে নিজেই ঠিক করতে পারবে৷
ফলে নিউরনের নির্দেশে রোবট ক্যানসার সেলে যেতে পারবে, সেখানে গিয়ে প্রতিষেধক উৎপাদনকারী কিছু কোষ ক্যানসার সেল ধ্বংস করার উপাদান নিঃসরণ করবে৷
বাইরে থেকে কোনো ওষুধের প্রয়োগ ছাড়াই ক্যানসারকে জয় করার স্বপ্ন-রথের সারথী হয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের সাবেক কৃতী শিক্ষার্থী তাহের এ সাইদ৷ বাংলাদেশের এই বিজ্ঞানীর সাফল্যে আনন্দের ফোয়ারা বইছে অনেকের মনে৷ খবরটি সোৎসাহে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তাঁরা৷
অথ্যাপক তাহের এ সাইফ ও তাঁর সুযোগ্য ছাত্রদের বায়ো-বট উদ্ভাবন এবং আরো বড় অর্জনের দিকে অগ্রসর হওয়ার খবরে সাংবাদিক ও লেখক আনিসুল হক গর্বিত৷
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকও যে গর্বিত, আনন্দিত তা বোঝা গেছে তাঁর টুইট দেখে৷ তাহের এ সাইফ সফল হলে শুধু নির্দিষ্ট কোনো দেশ, জাতি, ধর্ম বা গোত্রের নয়, সারা মানব জাতিরই কল্যাণ হবে৷ সবার গর্বিত হওয়া, আনন্দে উদ্বেল হওয়াই তো স্বাভাবিক৷
facebook
youtube
Subscribe to:
Comments
(
Atom
)








