বিস্তারিত:CLICK HERE
Saturday, September 19, 2015
যে অনু্ভতি গুলো চিরকাল করে রাখবে চির গোলাম
Wednesday, September 2, 2015
হত্য কর লালিত স্বপ্নকে..তোমাকে না
এক দেশে(সারা বিশ্ব)ছিল এক গ্রাম(বাংলাদেশ)।সে গ্রামের মানুষের মনে কোন শান্তি ছিল না।খুব খরতাপে ক্ষেতের ফসল সব পৃড়ে যাচ্ছে।ছাতক পাখির মত তাকিয়ে তাকে আকাশের দিকে কখন বৃষ্টি(চাকরি নামের সোনার হরিণ) নামবে।এভাবে কেটে গেল একমাস,দু মাস।হাহাকার আর হাহাকার।কারও ঘরে চাল আছে ত ডাল নেই,লবন আছে ত তেল নেই।এভাবে আর কতদিন।তখন গ্রামের সকলে মিলে গনমোনাজাতের আয়োজন করল।যাতে সব সম্প্রদায়ের লোকেরা অংশগ্রহন করবে।
যেই কথা সেই কাজ।দিন তারিখ ঠিক করা হল,সেই মোতাবেক সবাই দলবেধে জড়ো হতে লাগল।সবাই সবার মত করে আসল কিন্তু একটি ছেলে হাতে ছাতা নিয়ে আসল।তা দেখে সবাই হতবাক।কারন সবাই ভাবল সে মশকরা করছে অন্যদের সাথে।এ ভেবে সবাই তার উপর খুব ক্ষিপ্ত হল এমন একটা বিষয় নিয়ে সে মজা করছে,যে বিষয়টা নিয়ে সারা গ্রাম চিন্তিত।একদল যুবক তেড়ে গেল তাকে মারতে।
ঘটনার বেগতিক দেখে প্রথান মুরুব্বির কাছে তাকে নিয়ে গেল তার বিচার করতে।তার কাছ থেকে জানতে চাওয়া হল এ পাগলামির কারন কি?ছেলেটা তখন মাথা নত করে বলল..আপনারা সবাই এসেছেন প্রভুর কাছে দোয়া চাইতে বৃষ্টির জন্য..আমিও এসেছি।তবে আমি এসেছি ছাতা নিয়ে কারন আমি বিশ্বাস করি এত লোক এত কায়মনো বাক্যে আল্লাহকে ডাকলে আল্লাহ না শুণে পারবেন না।বৃষ্টি হবেই হবেই..হবে।তাই ছাতা নিয়ে এসেছি।
আপনি কি বলবেন এ ছেলেটাকে? পাগল।না আমি তাকে বলব পাগল না ।কারন সারা গ্রামবাসী এসেছে কিন্তু কারও মনে কোন আত্ববিশ্বাস ছিল না যে আজ বৃষ্টি হবেই। সে ভেবেছে বিধাতা খালি হাতে ফিরাবেন না।গ্রাম বাসী স্বপ্ন দেখেছে কিন্তু বিশ্বাস করেনি।
প্রতি শুক্রবার সারাবাংলাদেশের রেল স্টেশনে আপনি যদি যান তাহলে দেখতে পারবেন কত ছেলে মেয়ে চাকরির পরিক্ষা দেয়ার জন্য স্টেশনে আসে। আমার এক বন্ধুর মা তাকে টিফিনকারিতে করে খাবার দিয়ে দিত..বাবা দুপুরে খাস..কষ্ট করিস না।
সবাই ভাল চাকরির জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে।ভাই, ভাল চাকরি হবে না হবেনা তা ত অনেক বিষয় জড়িত।তার জন্য জীবনের চলার পথটাকে কেন কঠিন করছেন? লেগে পরুন না একটা ছোট কাজে তা হোক অফিস পিয়ন আর দারোআনের। একটু পাগলামী আর খামখেয়ালীপনা করুন আর শুথু এ বিশ্বাসটা রাখুন আপনি শিক্ষিত, অন্য আট দশটা পিয়নের থেকে সে কাজটা খুব আধুনিক ভাবে করতে পারবেন। আর সে কাজটাই হয়ত আপনাকে সহায়তা করবে ভাল কিছুর জন্য। GOOGLE,FACEBOOK,FORDS MOTOROS,ALI BABA,G-MAIL পাগলামী করেই সৃষ্টি হয়েছে আর আরও অনেক উদাহারন রয়েছে। আজ এরাই বিশ্বটাকে শাষন করছে। কিন্তু এরা কোন স্বপ্ন নিয়ে শুরু করেনি।পাগলের মত খেলার ছলে শুরুটা হয়েছিল।আমরা একটু পাগল হতে দোষ কি?
লোকে কি বলবে? ভাই আপনি যখন বেকার ছিলেন তখন কেউ বলেনি আক্ষেপ করেও যে ছেলেটা লেখাপড়া করে চাকরির জন্য বেকার বসে আছে।বাবা,বলে এবার একটা কিছু কর..বাড়ি থেকে বের করে দেবার নজীর কম নেই,ভাই,বোন সবাই তাকিয়ে তাকে…আর পেমিকা থাকলে ত কথাই নাই। মাথা নষ্ট করার জন্য এই প্রজাতির প্রানীরা এক কদম নয় হাজার কদম এগিয়ে।
তাই, ভাই লোকের কথা না শুনে লেগে পড়ুন।
অনেক লোক এক লম্বা গাছেল ডালে খুব লোভনীয় এক জিনিস দেখে খুব আফসোস করতেছে।কিন্তু গাছটা খুব বড় হওয়াই কেউ সাহস করছে না।নতুন এক লোক সাহস করে উপরে উঠার সাহস করল আর ভাবতে লাগল ওরা কত বোকা।যেই ভাবা সেই কাজ,লোকটা উপরে উঠতে লাগল আর নিচ হতে লোকের চেচামেছি করে বলতে লাগল না উঠার জন্য। লোকটা উঠল এবং সে জিনিসটা নিয়ে নিচে নামল।সবাই যখন মানা করছিল তখন তা সে শুনতে পায়নি কারন সে কানে শুনতে পেত না।আর কানে শুনলে হয়ত তা সে করত না।
তাই ভাই, স্বপ্ন না দেখে, কাজ করার ক্ষেত্রে আপনি কানে কম শুনেন,বোকা হোন আর ওসাইন বোল্টের মত দ্রুত গতিয়মান হোন।দেখেন না কি হয় ।সমস্যা আসবে,এর জন্য নিজেকে কেন শেষ করবেন।
একটা ভাল চাকরি আর একটা ভাল কাজ জীবনে সুখের সমাথান না।
এত কষ্ট করে পড়াশুনা করেছেন মাঝ নদীতে তরীটা কেন ডুবাবেন?ঝড় থামবে তা না স্বপ্ন দেখে হালটা আগে ভাল করে থরে রাখুন না।দেখেন না ভাসিয়ে কোথায় নিয়ে যায়।পানিতে ঝাপ দেয়া কি আপনার শোভা পায়?
এক নাবিক মাঝ নদীতে ঝড়ের কবলে পরে কোন এক দ্বিপে এসে পরল।দিন যায়,রাত যায়,মাস,বছর গেল অপেক্ষায় যে কোন এক জাহাজ ঘাটে ভিরায় কিনা।কিন্তু জীবনের প্রয়োজনে সেখানে সে থাকার জন্য ঘর বাধল, খাবারের ব্যবস্থা করল। কিন্তু একদিন খাবার পাক করতে গিয়ে সে ঘরে আগুন লেগে গেল।সব আবার পুড়ে গেল।আর বিধাতাকে বলছে..আর কত কষ্ট দিবা।আর কতদিন এভাবে পড়ে থাকব বা আমাকে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নিয়ে নাও।
ঘর পৃড়ল কিন্তু কি হল, যে ঘরটা পুড়ে ছাই হয়ে গেল সে ঘরের কালো ধোয়া উপরে উঠতে লাগল আর আর সে ধোয়ার কুন্ডলি দেখে পাশের কোন দ্বীপের একটি জাহাজ সে দ্বীপে এসে লোকটিকে তুলে নিল।
হাতাশা হবেন না।তাকান না আপনার মায়ের দিকে যে কিনা আপনার চাকরির বেতনের দিকে তাকায় না..কবে চাকরি হতে ঘরে ফিরবা সে আশায় পথ চেয়ে বসে থাকে। দেখুন না আপনার বোনের ফোকলা দাতের ফাকের হাসিটা।এটাতে কত সুখ।
আগে ভালবাসুন জীবনটা।বড় বড় স্বপ্ন দেখুন,না পেলে হতাশা না হয়ে ঝড়ে পরবেন না।ভালবাসুন আপনাকে,আপনার বিশ্বাসটাকে।আর সে বিশ্বাসটাকে মনে করুন আপনার প্রেয়সীর খুব আদরের দেহটার মত। যার শরীরের প্রতি লোমে লোমে আপনার আদর মাখা থাকবে খুব যত্ন সহকারে।যাকে আপনি অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখবেন রাণীদের মত করে।
হত্য করুন স্বপ্নকে..আত্ববিশ্বাসটাকে বাড়িয়ে তুলুন।সাফল্য সে ত আসবেই..আসতেই হবে।
আরও ব্লগ:
CLICK ME
Friday, August 28, 2015
দর্শকের সিগারেটেই সুখটান শিম্পাঞ্জির
প্রচণ্ড কাজের চাপ৷ বেড়েছে টেনশন৷গ্রাস করেছে হতাশা৷ মুক্তি পেতে অনেকেই ধূমপানের আশ্রয় নেন৷কিন্তু, টেনশন থেকে মুক্তি পেতে সভ্য জীব মানুষই যে শুধু ধূমপানের আশ্রয় নেন না৷ সেটি যে বন্যপ্রাণীদেরও ভরসাস্থল, তার প্রমাণ পাওয়া গেল চিনের জিনজিয়াংয়ের এক চিড়িয়াখানায়৷দিনভর পর্যটকদের আনন্দ দিতে দিতে তারও একটু বিশ্রামের প্রয়োজন হয়৷আর সারাদিনের ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে সিগারেটে সুখটান দিতে দেখা গেল তিয়ানশান ওয়াইল্ড অ্যানিমাল জু-এর একটি শিম্পাঞ্জিকে৷দর্শকের হাত থেকে নিয়ে দিব্যি সিগারেটে সুখটান দিয়ে মানুষের মতোই ধোঁয়া ছাড়তেও দেখা গেল জিয়া কু-কে৷
তবে এই প্রথম নয়৷ আগেও মাদকাসক্ত শিম্পাঞ্জিদের দেখা মিলেছে৷শুধু সিগারেটই নয়, বিয়ারের ক্যানে চুমুক দিতেও দেখা গিয়েছে রাশিয়ার এক শিম্পাঞ্জিকে৷
আর এবার ফের সিগারেট হাতে ক্যামেরাবন্দি হল বছর কুড়ির এই শিম্পাঞ্জিটি৷
বিশ্বের সবচেয়ে সেক্সি পুরুষ
রূপালি পর্দায় তাঁর অনেক পরিচয়৷ তিনি জেমস বন্ড তারকা৷ অস্কার জয়ের খ্যাতিও আছে তাঁর৷ অনেকের কাছে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে সেক্সি পুরুষ৷ ৮৫ বছর বয়সেও তিনি তরুণ৷ শুভ জন্মদিন, শন কনারি!
চিরসবুজ, চিরকালের ‘হীরা’
২৫ আগস্ট ৮৫-তে পা দিলেন শন কনারি৷ এই বয়সেও শার্ট খুললে অনেক তরুণীই তাঁর রোমশ বুকের দিকে তাকিয়ে থাকে৷ এই ছবিটি অবশ্য আগের৷ ‘ডায়মন্ডস আর ফরএভার’ ছবির গোয়েন্দা জেমস বন্ডকে গোসল করতে দেখা যাচ্ছে এখানে৷ হীরা চিরকালই যেমন অমূল্য, আকর্ষণীয়, শন কনারিও তেমনি৷
যেভাবে জনপ্রিয়, যে কারণে যৌনাবেদন
স্কটল্যান্ডে জন্ম নেয়া শন কনারির ‘হার্টথ্রব’ হওয়া শুরু জেমস বন্ড দিয়ে৷ পর্দার চৌকষ, সুপুরুষ গোয়েন্দা বন্ড বাস্তব জীবনেও ভীষণ ড্যাশিং এবং স্টাইলিশ৷
‘প্রথম আলো’
‘জেমস বন্ড’ হওয়ার আগ পর্যন্ত হলিউডে খুব কঠিন সময় কাটিয়েছেন শন কনারি৷ বক্স অফিসে কিছুটা সাফল্য এসেছিল ১৯৫৮ সালে, ‘অ্যানাদার টাইম, অ্যানাদার প্লেস’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে৷ ওপরের ছবিতে সেই ছবিরই এক বিশেষ মুহূর্তে লানা টার্নার-এর সঙ্গে কনারি৷
সে আলো ছড়িয়ে গেল.....
‘অ্যানাদার টাইম, অ্যানাদার প্লেস’-এর ঠিক চার বছর পরই হলিউডে শুরু হয়ে গেল শন কনারির যুগ৷ জেমস বন্ড-এর ‘ডক্টর নো’-র মাধ্যমে জন্ম হলো নতুন এক মহানায়কের৷ ছবিতে উর্সুলা আনড্রেস-এর সঙ্গে কনারির কিছু দৃশ্য এখনো অনেকের হৃৎস্পন্দন বাড়িয়ে দেয়৷
অভিনয়মানের টান
খ্যাতি এবং জনপ্রিয়তার শিখরে থাকার সময়েও অভিনয়ে বৈচিত্র্য এবং মানকে গুরুত্ব দিয়েছেন কনারি৷ ১৯৬২ সালে আলফ্রেড হিচককের সাইকো-থ্রিলার ‘মারনি’-তে তাঁর অভিনয় দক্ষতা চিরস্মরণীয়৷
সুপার-ডুপার হিট কনারি
জেমস বন্ড সিকুয়ালে তাঁর তৃতীয় ছবি ‘গোল্ডফিঙ্গার’৷ কল্পনাতীত সাফল্য পেয়েছিল ছবিটি৷ ১৯৬৪ সালে এ ছবি থেকে আয় হয়েছিল ১২৫ মিলিয়ন ডলার!
জেমস বন্ড থেকে মুক্তি
জেমস বন্ডে অভিনয় এক সময় বড় একঘেয়ে মনে হচ্ছিল৷ সবসময় অর্থ আর জনপ্রিয়তাই তো সব নয়! কনারি চাইছিলেন জেমস বন্ড ইমেজটাকে ভাঙতে৷ ১৯৭৪-এ মুক্তি পাওয়া ‘জারডোজ’ অবশেষে তাঁকে সেই তৃপ্তি দিল৷
অস্কারজয়ী ‘স্যার’ কনারি
শন কনারি অভিনয় জীবনের সেরা স্বীকৃতিটি পেয়েছেন ১৯৮৭ সালে৷ সে বছর ‘দ্য আনটাচেবলস’-এ পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের জন্য অস্কার দেয়া হয় তাঁকে৷ পরে একবার গোল্ডেন গ্লোবও জিতেছেন কনারি৷ ২০০০ সালে ‘নাইট’ উপাধিও দেয়া হয় তাঁকে৷
উদারতা
ক্যারিয়ারের এক পর্যায়ে অনেক ছবিতে সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্রে অভিনয়ের অফার প্রত্যাখ্যান করে সেই চরিত্র বয়সে তরুণদের দিতে শুরু করেন কনারি৷ ওপরের ছবিটি ১৯৮৬ সালের ‘হাইল্যান্ডার’ চলচ্চিত্রের৷ ‘মুখ্য’ চরিত্রটি ক্রিস্টোফার ল্যাম্বার্টের (ডান দিকে) জন্য ছেড়ে দিয়ে ছোট, অথচ গুরুত্বপূর্ণ এক চরিত্র রূপায়ন করেছিলেন শন কনারি৷
হলিউডকে বিদায়
নব্বইয়ের দশক থেকে খুব ধীরে হলেও জনপ্রিয়তার ‘গ্রাফটা’ নীচের দিকে নামতে শুরু করে৷ ‘দ্য অ্যাভেঞ্জার্স’ সহ বেশ কয়েকটি ছবি বক্সঅফিসে সফল হলেও কনারি বুঝতে পারছিলেন রূপালি পর্দাকে বিদায় জানানোর সময় এসেছে৷‘দ্য লিগ অফ এক্সট্রাঅর্ডিনারি জেন্টলম্যান’ ছবির পর শন তাই আর অভিনয় করেননি৷ ২০০৩ সালে ঘোষণা দিয়েই অভিনয়জীবনে ইতি টেনে ব্যক্তিগত জীবনে ডুব দিয়েছেন হলিউড ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকা৷
Monday, August 24, 2015
রকশার উপার্জনে হজে গেলেন জাহাঙ্গীর
প্রতিটি মুসলিমেরই স্বপ্ন থাকে হজ করার। সেই স্বপ্ন কারো পূরণ হয় কারো হয় না। তবে ইচ্ছে থাকলে উপায় হয় বলে প্রবাদ রয়েছে। সেই প্রবাদকে সত্যি করে হজে গেলেন রিকশা চালক জাহাঙ্গীর। ২২ আগস্ট তিনি পবিত্র হজের উদ্দেশে সৌদির পথে রওনা হয়েছেন।
ভারতের উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর খান আব্বাসির বয়স ৬২। ছোট বেলার হজের স্বপ্ন পূরণ করতে বেশ কয়েক বছর ধরেই টাকা জমাচ্ছিলেন। দৈনন্দির প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করে সব টাকাই রেখে দিচ্ছিলেন হজের জন্য। শেষ পর্যন্ত শনিবার তার স্বপ্ন পূরণ হলো।
জাহাঙ্গীর একাই হজে যাননি। সঙ্গে তার স্ত্রী জিনাত বেগমকেউ নিয়েছেন। জাহাঙ্গীরের এমন খবরে আশ্চর্য হয়েছে গ্রামবাসী। মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে তার প্রশংসা।
ভারতের একটি পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জাহাঙ্গীর খান বলেন, স্বপ্ন দেখলে বড় স্বপ্নই দেখতে হয়। আর স্বপ্ন পূরণে একান্ত ইচ্ছা থাকতে হয়। তবেই স্বপ্ন সত্যি হয়।
3 ভিডিও,14মিনিট BUT সারা জীবনের শিক্ষা
ইসলাম প্রচারে ব্যস্ত হ্যাপি
দর্শকপ্রিয় মডেল তারকা ও অভিনেত্রী নাজনিন আক্তার হ্যাপি সম্প্রতি মিডিয়া জগৎ থেকে বিদায় নিয়ে এখন ইসলামী জীবন গঠনে ও ইসলাম প্রচারে ব্যস্ত রয়েছেন। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি তার ফেইসবুক পেইজে স্ট্যাটাস দিয়ে ভক্তদের জানিয়ে দিচ্ছেন এই পরিবর্তনের খবর। সর্বশেষ দুটি স্ট্যাটাসে তিনি মিডিয়া ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি ইসলাম প্রচারমূলক কথাও লিখেন।
নাজনিন আক্তার হ্যাপি নামে ওই আইডিতে দেওয়া প্রথম স্ট্যাটাসে রোববার বিকাল ৬টা পর্যন্ত ৩ হাজার ৬শ ৮২ জন লাইক দিয়েছেন। ৫০ জন পোস্টটি শিয়ার করেছেন আর কমেন্টস করেছেন ৩৪ জন। এদিকে, দ্বিতীয় স্ট্যাটাসে একই সময়ে ১০ হাজার ৫শ ১৯ জন লাইক দিয়েছেন। ৩শ ৩৯ জন পোস্টটি শিয়ার করেছেন আর কমেন্টস করেছেন ৩২ জন। পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাস দুটি তুলে ধরা হল
স্ট্যাটাস : ১
২‘আসসালামু আলাইকুম। আমি আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি আরও বেশকিছুদিন আগে। আমি চলচ্চিত্র, মিডিয়া ওই সব রঙিন দুনিয়া থেকে একেবারের জন্য বিদায় নিয়েছি। জীবনটাকেই বদলে ফেলেছি। আল্লাহর কাছে তওবা করে এখন শুধু নামাজ আর ভালো মানুষ হওয়ার আকাক্সক্ষায় দিন কাটাচ্ছি। এর মধ্যে অদ্ভূত এক শান্তি, যে শান্তি দুনিয়ার সব সম্পদ নিজের থাকলেও সম্ভব নয়। আমাদের প্রত্যেকের এটাই চিন্তা করা উচিত যে, দুনিয়া খুব কম সময়ের এই সময়টা শুধু আল্লাহের ইবাদাত করার জন্য, আর কোনো কিছুর জন্য নয়। আমরা যদি সবাই একবার চিন্তা করি দুনিয়া কী? কীসের জন্য? মৃত্যুর পর কী হবে? তাহলে আমরা সব উত্তর পেয়ে যাব। আমি খুব ভাগ্যবতী যে, আমি নিজের ভুল বুঝে এখন শুধু আল্লাহর ভালোবাসায় মগ্ন। দুনিয়ার কোনো শক্তি নেই আমাকে অসৎ পথে নিয়ে যাওয়ার বা আল্লাহর পথ থেকে সরানোর। আমার সঙ্গে যে বা যারা অন্যায় করেছে আমি সকলকে ক্ষমা করে দিয়েছি, আর চাই আল্লাহ তাদের সঠিক পথে আসার তৌফিক দান করুক এবং তাদের ক্ষমা করুক। বিশ্বাস করুন ইসলামের পথে চলা আর ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করার মধ্যে বেহেশতের সুখ যা আপনি আর কোনোভাবে অনুভব করতে পারবেন না। দুনিয়াতে যে যত বেশি কষ্টে থাকে সে তত ভাগ্যবান/ভাগ্যবতী কারণ, আল্লাহ তার যেই বান্দাদের বেশি ভালবাসেন তাদেরকে দুঃখ-কষ্ট দিয়ে পরীক্ষা করেন আর এই পরিক্ষায় পাশ করতে পারলে আল্লাহ তার জন্য আখিরাতে অনেক বড় পুরস্কারের ব্যবস্থা করবেন। আর যেই মানুষ অন্য একজন মানুষকে নিয়ে হাসি-তামাসা, ঠাট্টা-বিদ্রুপ আর ছোট এবং অপমান করে তাদেরকে আল্লাহ দুনিয়াতে আরও সুযোগ দেয় এবং মৃত্যুর পর তাদের কঠিন শাস্তি পেতে হবে। আমি বেপর্দায় চলতাম, ইসলাম মেনে চলতাম না, রঙিন দুনিয়ায় চলতাম আমি যদি আল্লাহকে ভয় করে ও আল্লাহকে ভালোবেসে ইসলামের পথে আসতে পারি তাহলে আপনি/আপনারা কেন পারবেন না? আল্লাহ সবসময় অপেক্ষা করেন তার বান্দা কখন তার কাছে ক্ষমা চায় এবং আল্লাহের দেখানো পথে চলে! আমি আল্লাহকে ভালোবেসে যে সুখ পাচ্ছি যা জীবনে আর কখনোও পাইনি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেন আমার ইমান ঠিক রেখে বাকি জীবন আল্লাহর দেখানো পথ অনুসরণ করে চলতে পারি। মানুষ চাইলেই বদলাতে পারে আর আল্লাহর পথে চলতে চাইলে তিনি নিজে পথ দেখিয়ে দেন। এই মুহূর্তে যদি মারা যাই আল্লাহর কাছে কীভাবে পাপের জবাবদিহি করব? দুনিয়া থেকে পরকালের জন্য কী নিয়ে যাব? এ সব একবার ভাবুন তাহলেই একজন ভালো ও পবিত্র মানুষ হতে পারবেন। আমীন।’
স্ট্যাটাস : ২
১‘আমরা মানুষ, সৃষ্টির সেরা। আল্লাহ আমাদের অনেক ভালোবাসেন। আমাদেরকে আল্লাহ যে কাজের জন্য পাঠিয়েছেন সেই কাজই আমরা করার সময় পাই না অথচ যেগুলো আল্লাহ কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন সেই কাজগুলোই আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে, যার জন্য আমাদের কঠিন সাজা ভোগ করতে হবে। আল্লাহ পরম দয়ালু। আমাদের প্রত্যেকের উচিত ভালো পথে ফিরে আসা, কারও ক্ষতি না করা, কারও মনে কষ্ট না দেওয়া, মিথ্যা কথা না বলা, কোরান পাঠ সেইসঙ্গে কোরানের আলোকে জীবন গড়া, ইসলাম মেনে চলা ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। আল্লাহ ক্ষমশীল ও ন্যায়বিচারক। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ অবশ্যই ক্ষমা করবেন। এই দুনিয়ায় মানুষ হয়ে মানুষকে ছোট করা, মানুষকে ঠকানো আরও কত কী! এর মধ্যে শুধুই জাহান্নামের আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই। আসুন এখন, এই মুহূর্তে তওবা করে আল্লাহের পথে চলি। এর মধ্যেই শান্তি। তওবা কীভাবে করতে হবে, তওবার সঠিক নিয়ম। কারও তওবা কবুল হয়েছে কি না এটা বোঝার উপায়Ñ
পাপ কাজ করা বন্ধ করতে হবে। এখন শুধু মুখে মুখে তওবা করি, কয়েকদিন পর থেকে পাপ কাজটা ছেড়ে দেবোÑ এ রকম হলে তওবা হবে না।
অতীতের সব পাপ কাজ ও ভুলত্রুটি আল্লাহর কাছে স্বীকার করে তার কাছে অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে।
অন্তরে ওই কাজগুলোর প্রতি ঘৃণা রেখে সেইগুলোতে আর ফিরে না যাওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞা করতে হবে।
লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে সব গুনাহখাতার জন্য ‘ইস্তিগফার’ করতে হবে (মাফ চাইতে হবে) + ‘তওবা’ করতে হবে (গুনাহ করা বন্ধ করে আল্লাহর কাছে ফিরে আসতে হবে)।
কারো হক নষ্ট করে থাকলে তাকে তার হক ফিরিয়ে দিতে হবে, অথবা যেভাবেই হোক, সামর্থ্য না থাকলে অনুরোধ করে, ক্ষমা চেয়ে তার কাছ থেকে মাফ করিয়ে নিতে হবে।
(তওবা করলে আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করে দেন, এমনকি কারও পাপ আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে গেলেও আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন। কিন্তু বান্দার কোনো হক নষ্ট করলে সেটা বান্দা মাফ না করলে তিনি মাফ করবেন না)।
অন্তরে আশা রাখতে হবে যে, আমি গুনাহগার কিন্তু আল্লাহ গাফুরুর রাহিমÑ অতীব ক্ষমাশীল ও দয়ালু। সুতরাং, তিনি আমার তওবা কবুল করবেন।
তওবা করার পরে প্রাণপণে চেষ্টা করতে হবে পাপ কাজ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকতে এবং সাধ্য অনুযায়ী বেশি বেশি নেকির কাজ করার চেষ্টা করতে হবে।
যে পাপ কাজ থেকে তওবা করা হল (সব পাপ কাজ থেকেই তওবা করা ফরয), কোনো ভুলে বা কুপ্রবৃত্তির কারণে পাপ কাজটা করে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে আবার তওবা করে সেটা থেকে ফিরে হবে। এইভাবে যখনই কোনো পাপ হবে সঙ্গে সঙ্গেই তওবা করতে হবে, মৃত্যু পর্যন্ত।
কারও তওবা কবুল হয়েছে কি না এটা কীভাবে বুঝবেন?
অনেক আলেম এ সম্পর্কে বলেন, কারও যদি তওবা করার পরের জীবন আগের জীবন থেকে ভালো হয় অর্থ্যাৎ, পাপের কাজ অনেক কমে যায় ও ভালো কাজ বৃদ্ধি পায় তাহলে আশা করা যেতে পারেÑ তার তওবা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়েছে। কিন্তু কারও যদি এমন না হয় অর্থ্যাৎ, তওবার আগের ও পরের জীবনে কোনো পার্থক্য না থাকে তাহলে বুঝতে হবে তার তওবাতে ত্রুটি আছে। তার উচিত হতাশ না হয়েÑ বার বার আন্তরিকতার সঙ্গে খালেস নিয়তে তওবা করা, আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। আল্লাহ আমাদের সবাইকে অন্তরিক তওবা করার তওফিক দান করুন।
কী দোয়া পড়ে তওবা করতে হবে?
যেই দোয়া পড়ে রাসুলুল্লাহ সা. তওবা করতেন ও আমাদেরকে পড়তে বলছেনÑ
উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লা-হাল আ’যিমাল্লাযি লা- ইলা- হা ইল্লা হুওয়াল হা’ইয়ুল কাইয়ুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।
অর্থ : আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। যিনি ছাড়া ইবাদতের আর কোনো যোগ্য উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। আমি তার কাছে তওবা করছি।
রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এই দোয়া পড়বে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন, যদিও সে জিহাদের ময়দান থেকে পলাতক আসামি হয়’।
(অর্থ্যাৎ, সে যদি বড় রকমের গুনাহগার হয়, তবুও আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন)।
তিরমিযি ৪/৬৯’
Subscribe to:
Comments
(
Atom
)